‘জয় সন্তোষী মা’ থেকে ‘শিরডি কে সাই বাবা’—ভারতীয় সিনেমায় ভক্তি ও ধর্মীয় বিশ্বাস নতুন কোনও বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিনোদন জগতে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বাসভিত্তিক গল্প। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমার সংখ্যা আবারও বাড়ছে।
বক্স অফিসের পরিসংখ্যানেও এর প্রভাব স্পষ্ট। ২০২৪ সালে অ্যানিমেটেড পৌরাণিক ও ভক্তিমূলক সিনেমা ‘মহাবতার নরসিংহ’ বছরের অন্যতম সফল সিনেমা হিসেবে উঠে আসে। ভারতে সিনেমাটির নিট আয় প্রায় ২৫০ কোটি রুপি।
সম্প্রতি ‘কৃষ্ণাবতারম পার্ট ১: দ্য হার্ট’ ভারতে ৩৯ দশমিক ৩৩ কোটি রুপি নিট আয় করেছে। এরই মধ্যে সিনেমাটির দ্বিতীয় পর্ব নির্মাণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে ২০২৭ সালে মুক্তির কথা রয়েছে।
এদিকে বিশাল চতুর্বেদী পরিচালিত ‘হনুমান অংশ’ও বক্স অফিসে চমক দেখাচ্ছে। ভারতে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৬৮ দশমিক ৮৫ কোটি রুপি এবং নিট আয় ১৪২ দশমিক ৮৮ কোটি রুপি। ফলে ১৫০ কোটি রুপি নিট আয়ের মাইলফলক এখন হাতের নাগালে।
এ ছাড়া ‘হারে কা সাহারা’, ‘বাবা খাটু শ্যাম হামারা’ ও ‘তেরে সাই’-এর মতো সিনেমার ঘোষণাও ইঙ্গিত দিচ্ছে, নির্মাতারা আবারও ভক্তিমূলক গল্পের দিকে ঝুঁকছেন।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, দর্শকদের চাহিদা, সিনেমা দেখার ধরনে পরিবর্তন এবং বিভিন্ন প্রজন্ম ও অঞ্চলের দর্শকের সঙ্গে সহজে সংযোগ তৈরি করতে পারে—এমন গল্পের খোঁজ থেকেই ভক্তিমূলক সিনেমার এই পুনরুত্থান।
নতুন নয়, বরং ফিরে আসছে
বাণিজ্য বিশ্লেষক তরুণ আদর্শ ভক্তিমূলক সিনেমার এই উত্থানকে পুরোপুরি নতুন কোনও প্রবণতা হিসেবে দেখতে নারাজ।
এনডিটিভিকে তিনি বলেন, ‘এটি নতুন কোনও প্রবণতা নয়। ১৯৭৫ সালে, যখন আমার বয়স মাত্র ১০ বছর, তখন ‘জয় সন্তোষী মা’ মুক্তি পেয়েছিল। তারও আগে অনেক ভক্তিমূলক সিনেমা নির্মিত হয়েছে। আমার বাবাও বেশ কয়েকটি ভক্তিমূলক সিনেমা প্রযোজনা করেছেন। তাই বিষয়টি আমি খুব কাছ থেকে জানি।’
আদর্শের মতে, সিনেমার জনপ্রিয়তা চক্রাকারে পরিবর্তিত হয়। কখনও রোমান্স, কখনও অ্যাকশন, পারিবারিক গল্প, হরর-কমেডি কিংবা ভক্তিমূলক সিনেমা—ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ঘরানা জনপ্রিয়তা পায়।
তিনি বলেন, ‘একসময় আমরা মাসালা সিনেমা, মাল্টিস্টারার, শহরকেন্দ্রিক গল্প এবং বিদেশি দর্শকের উপযোগী সিনেমার দিকে ঝুঁকেছিলাম। এরপর প্রেমের গল্প, তারপর আবার মাসালা সিনেমা ও হরর-কমেডিতে ফিরে এসেছি। তাহলে ভক্তিমূলক সিনেমা কেন নয়? ভালো সিনেমার জন্য সবসময়ই দর্শক রয়েছে।’
তার মতে, শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দর্শকের সঙ্গে সিনেমার সংযোগ।
কেন ভক্তিমূলক সিনেমায় বিনিয়োগ করছেন প্রযোজকরা?
নির্মাতাদের কাছে ভক্তিমূলক গল্পে আবেগের গভীরতা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় পরিসরের দর্শক পাওয়ার সম্ভাবনা।
তরুণ আদর্শের মতে, প্রযোজক ও স্টুডিওগুলো সবসময়ই বৈচিত্র্যময় প্রকল্প খুঁজতে থাকে। তিনি বলেন, ‘একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শুধু এক ধরনের সিনেমা বানিয়ে টিকে থাকতে পারে না। প্রত্যেক প্রযোজকেরই বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প প্রয়োজন। এখন যদি একের পর এক ভক্তিমূলক সিনেমার ঘোষণা আসে, তাহলে এমনও হতে পারে যে এগুলো দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণের প্রস্তুতিতে ছিল এবং এখন একই সময়ে দর্শকের সামনে আসছে।’
বাণিজ্য বিশ্লেষক কমল নাহতা বলেন, ‘সিনেমা নির্মাণ একটি ব্যবসা। কোনও নির্দিষ্ট ধরনের সিনেমা যদি অর্থ আয় করে, তাহলে আরও প্রযোজক সেই ধরনের সিনেমা বানাবেন।’
‘মহাবতার নরসিংহ’, ‘কৃষ্ণাবতারম পার্ট ১: দ্য হার্ট’ এবং ‘হনুমান অংশ’-এর সাফল্যও প্রযোজকদের এই বার্তা দিয়েছে যে বিশ্বাসভিত্তিক গল্প জাতীয় পর্যায়েও বাণিজ্যিক সাফল্য পেতে পারে।

রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, মেয়ে তানি বললেন ‘মা সম্পূর্ণ সুস্থ’


