বাস-ট্রেন স্টেশন কিংবা বিমানবন্দরের ফটকে সাধারণত এমন চিত্র দেখা যায়। সেগুলো কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির নাম লিখে অপেক্ষায় থাকা। এর বাইরে পথসভা কিংবা নীরব প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে নানামাত্রিক স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড শোভা পায় হাতে হাতে। একই চিত্র লক্ষ করা যাচ্ছে কানসৈকতের পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনটিকে ঘিরে।
তবে এই জায়গা কোনও স্টেশন কিংবা প্রতিবাদের মঞ্চ নয়। বরং গোটা বিশ্ব থেকে উড়ে আসা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের সুবাদে উৎসবের পরিবেশ ছড়িয়ে আছে সর্বত্র। সেই পরিবেশে উৎসব উদ্বোধনের দিন (১৬ মে) থেকে তৃতীয় দিন (১৮ মে) পর্যন্ত সবার নজর কাড়ছে কিছু মানুষের হাতে রাখা নানামাত্রিক প্ল্যাকার্ড। তারা প্রত্যেকেই প্ল্যাকার্ড হাতে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের প্রায় সব প্রবেশদ্বারে। কেউ বা হাতপাখা আকৃতির কাগজে অনুরোধ লিখে দাঁড়িয়ে আছেন সড়কের পাশে।
তবে ছবি তুলতে কিংবা ভিডিও করতে গেলেই সবাই হাসিমুখে লুকিয়ে ফেলছেন প্ল্যাকার্ড! এ যেন এক রহস্য। এমন আনন্দ আসরে কেন এই লুকোচুরি? কী অথবা কাকে খুঁজছেন তারা? সেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে বাংলা ট্রিবিউন।
এমন কয়েকজন প্ল্যাকার্ডধারীর সঙ্গে আলাপ করে উন্মোচন করা গেছে মজার রহস্য। এরমধ্যে কথা হলো লং গাউন ও টাক্সেডো পরা দুই তরুণ-তরুণীর সঙ্গে। মনে হচ্ছে তারা বুঝি আজই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে হানিমুনে ছুটে এসেছেন পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের সামনে! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরাসি এই তরুণ-তরুণী জানান, তারা এসেছেন উৎসবের উদ্বোধনী ছবি ‘জান দ্যু ব্যারি’ দেখার আশায়। সেটা পূরণ করতে প্রয়োজন উৎসব কমিটির ইনভাইটেশন এবং শোর টিকিট। অথচ তারা এসব ছাড়াই সেজে-পেড়ে চলে এসেছেন জনি ডেপের সঙ্গে একই থিয়েটারে ছবিটি দেখতে!
মূলত এই আবদারই লেখা হাতের প্ল্যাকার্ডে। তাদের ভাষায়, ‘এখানে এমন অনেক অতিথি ঢুকবেন যাদের ব্যাগভর্তি টিকিট। অথচ সেগুলো দেওয়ার মতো লোক নেই তাদের। আমরা তেমন কাউকেই খুঁজছি। যদি তারা আমাদের দুটি টিকিট দেন, তাহলে ধন্য হবো।’
ফরাসি এই দুই তরুণ-তরুণীর সম্পর্ক কী, সেটি অবশ্য নিশ্চিত করা যায়নি ভাষা জটিলতার কারণে। জানা দরকার, ফরাসিরা হয়তো ইংরেজি বলতে জানলেও বলেন না। উল্টো মুখের ওপর বলে দেন, ‘আই ডোন্ট নো ইংলিশ!’
এদিকে উৎসবস্থলে ঢোকার প্রতিটি ফটকেই গত তিন দিন ধরে এমন প্ল্যাকার্ড চোখে পড়েছে। কারণ, প্রতিদিনই কোনও না কোনও ছবির প্রদর্শনী হচ্ছে।
আরেকটি তথ্য দেওয়া দরকার, এমন প্ল্যাকার্ডধারী সাধারণ মানুষগুলোর বেশিরভাগই কান শহরের স্থানীয় বাসিন্দা। তারা এভাবেই কোনও না কোনও ছবি দেখে থাকেন প্রতি আসরে। এই কাজটিকে তারা বেশ উপভোগ করেন।
তিন দিন ধরে উৎসব ফটকে চোখ রেখে দেখা গেছে এমন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক দর্শকের সংখ্যা অনেক। তাদের মধ্যে বয়সের পার্থক্যও রয়েছে।
বলতে দ্বিধা নেই, উৎসবে আলোচিত কিংবা তারকাখচিত সিনেমাগুলোর প্রদর্শনী দেখতে পারাটা বেশ কষ্টসাধ্য বিষয়। উৎসবে আগত বা আমন্ত্রিত শিল্পী-নির্মাতা-সাংবাদিকদেরও রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় শোর টিকিট বুকিং দিতে। কারণ, এখানকার হলগুলো ছোট পরিসরের।
১৬ মে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় পর্দা ওঠে এবারের কান উৎসবের। তৃতীয় দিনে এসে পালে দে ফেস্টিভ্যালসহ কান শহরের অলিগলিতে চলছে উৎসবের আমেজ। স্থানীয়রাও পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবস্থলের বাইরে মূল সড়কে এসে ভিড় জমান, আগত তারকাদের দেখতে কিংবা তাদের ছবি তুলতে।
৭৬তম কান উৎসবের পর্দা নামবে ২৭ মে। সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে দেখানো হবে পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিওর ২৭তম সিনেমা ‘এলেমেন্টাল’। রোজকার মতো ওইদিনও উৎসবস্থলের বিভিন্ন ফটকের সামনে দেখা যাবে প্ল্যাকার্ড হাতে ছবি দেখার জন্য অভিনব এই আবদার। এগুলো সত্যিই সুন্দর ও ব্যতিক্রম।





