তবু কেন আইনি নোটিশ আসবে, বুঝি না: নির্মাতা ‘ন ডরাই’

Send
মাহমুদ মানজুর
প্রকাশিত : ১৬:৫২, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৩, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

ছবিটির শুটিংয়ে নির্মাতা অংশু ও নায়িকা সুনেরাহ্ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে ‘সার্ফিং’ নিয়ে দেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ন ডরাই’-এর সেন্সর বাতিল ও প্রদর্শনী বন্ধে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ডাকযোগে আইনজীবী মো. হুজ্জাতুল ইসলাম এ নোটিশ প্রেরণ করেন। বাংলা ট্রিবিউন-এর আদালত প্রতিবেদককে এমনটাই নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।
এদিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এমন কোনও নোটিশ হাতে পাননি বলে জানান ছবিটির নির্মাতা তানিম রহমান অংশু এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টার সিনেপ্লেক্স সূত্র।
তবে নোটিশ না পেলেও বাংলা ট্রিবিউন-এ প্রকাশিত ‘‘ন ডরাই’ সিনেমার সেন্সর বাতিল ও প্রদর্শনী বন্ধে আইনি নোটিশ’’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে জানতে পেরে খানিকটা বিস্ময় প্রকাশ করেন নির্মাতা অংশু। হতাশা নিয়ে বলেন, ‘কোনও কারণ ছাড়া এমন কেন হচ্ছে? দুইবার ছবিটি সেন্সর হলো। তবু কেন আইনি নোটিশ আসবে, বুঝি না।’

আরেকটু ব্যাখ্যা করে অংশু বলেন, ‘কোনও আইনি নোটিশ আমি বা আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে এখনও আসেনি। ফলে এ নিয়ে কনফার্মলি কিছু বলতে পারছি না। তবে যেটুকু জানতে পারলাম, তার উত্তরে এটুকু বলতে চাই, আমার মনে হয় না ছবিটির মাধ্যমে এমন কিছু করেছি, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, কিংবা কেউ কষ্ট পেতে পারেন। আমি বা আমার প্রডিউসার অথবা স্ক্রিপ্ট রাইটার এই ছবিতে এমন কিছু করিনি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কিছু দেখানোর চেষ্টাও করিনি। আমার মনে হয় না, ছবিটি নিয়ে কেউ কোনও অভিযোগ তুলতে পারবে। কোনও কারণ ছাড়া এমন কেন হচ্ছে, আমি জানি না।’


এদিকে ‘ন ডরাই’ ছবিটির বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড আগেই কিছু সংশোধনী দিয়েছে। সেটি মেনেই ছবিটি ছাড়পত্র পায়। তবু কেন এমন অভিযোগ উঠলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তানিম রহমান অংশু বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমারও একই প্রশ্ন। ছবিতে এখন আর এমন কিছু নেই যেটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। দেখুন, চট্টগ্রামের ভাষার কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। অ্যাজ আ ডিরেক্টর-প্রডিউসার গল্প বা সিনেমার প্রতি অনেস্ট হতে চাইলে অরিজিনালিটি রাখতে হয়। চট্টগ্রামের ভাষার অরিজিনালিটি রক্ষা করতে গিয়ে আমরা কিছু ভাষা বা শব্দ (যেটাকে গালি বলেন কেউ কেউ) রাখতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু সেটাও সেন্সর বোর্ডের প্রতি সম্মান রেখে মিউট করে দিয়েছি। তারপরই ছবিটি মুক্তি দিয়েছি। তবু কেন আইনি নোটিশ আসবে, আমি বুঝি না।’
অংশু জানান, নোটিশটি হাতে পেলে সেটি পড়ে আরও বিস্তারিত উত্তর দেবেন। তার ভাষায়, ‘আমি এখনও নিশ্চিত নই- নোটিশে আসলে আপত্তির বিষয়গুলো কী।’
তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব, ছবিটির প্রযোজক মাহবুব রহমান, পরিচালক তানিম রহমান অংশু ও চিত্রনাট্যকার শ্যামল সেনগুপ্ত বরাবর পাঠানো উক্ত নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চলচ্চিত্রটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।
নোটিশে বলা হয়েছে, এই চলচ্চিত্রে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী হজরত আয়শা (রা.) সম্পর্কে বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও চলচ্চিত্রের কিছু অংশ অশ্লীল ও অনৈতিক। তাই এসব বিষয়ে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করবে। চলচ্চিত্রটির প্রযোজক, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার সস্তা প্রচারণার উদ্দেশ্যে ধর্মীয় উসকানিমূলক পথ বেছে নিয়েছেন।
তাই নোটিশে চলচ্চিত্রটির সেন্সর ও প্রদর্শন বাজার থেকে
প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্টদের মুসলিম সমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। না হলে ৪৮ ঘণ্টা পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত সার্ফিং নিয়ে দেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ন ডরাই’। ছবিটির মূল চরিত্রের নাম আয়শা। যিনি শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সার্ফিং করেন। এতে আয়শা চরিত্রে অভিনয় করেন সুনেরাহ্ বিনতে কামাল। মূলত এই নামটি নিয়েই আপত্তি তোলেন আইনজীবী মো. হুজ্জাতুল ইসলাম।
স্টার সিনেপ্লেক্স প্রযোজিত আলোচিত এই ছবিটি গত ২৯ নভেম্বর দেশের ৮টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ