আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব শুরু আগামীকাল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৯:৩৩, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১১, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন উৎসব পরিচালক এন রাশেদ চৌধুরী

১৫তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হচ্ছে কাল শনিবার (৭ ডিসেম্বর) থেকে। সম্প্রতি নির্মিত বিশ্বের ৪৫টি দেশের  ইন্ডিপেনডেন্ট চলচ্চিত্র নিয়ে এই উৎসব আয়োজিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই উৎসবের বিস্তারিত তুলে ধরেন উৎসব পরিচালক এন রাশেদ চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই উৎসবই দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আসছে। এবারের ১৫তম উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে  স্বাধীন চলচ্চিত্র ধারার অন্যতম গুণী নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সম্পাদক প্রয়াত সাইদুল আনাম টুটুল, বাংলাদেশে শৈল্পিক চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ খসরুর স্মৃতির প্রতি।

রাশেদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশসহ ৪৫টি দেশের অন্তত দুই শতাধিক স্বল্প ও মুক্ত দৈর্ঘ্যের ছবি উৎসবের বিভিন্ন বিভাগে দেখানো হবে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগের নির্বাচিত কাহিনী ও প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকবে সাধারণ বিশ্ব চলচ্চিত্র বিভাগ, বাংলাদেশি স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতিযোগিতার বিভাগে (অনুর্ধ ১৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবি) তারেক শাহরিয়ার ইন্ডিপেনডেন্ট শটস, নেটপ্যাক জুরি অ্যাওয়ার্ড,কান্ট্রি ও রিজিওন ফোকাস,পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য দুটি ফিল্ম স্কুলের নির্বাচিত চলচ্চিত্র, রেট্রোস্পেকটিভ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ট্রিবিউট প্রদর্শনী,সাম্প্রতিক নির্মিত এশিয়ান মুক্ত দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী ছাড়াও উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ আলমগীর কবির স্মারক বক্তৃতা,তিনটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও একটি মাস্টার ক্লাস।

তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রখ্যাত স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা,চিত্রনাট্য রচয়িতা কমল স্বরূপকে আমম্ত্রণ জানানো হয়েছে এবছরের আলমগীর কবির মেমোরিয়াল লেকচার উপস্থাপন করার জন্য। বাংলা সিনেমার কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক কুমার ঘটকের যোগ্য শিষ্য প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা কুমার সাহানীর চারটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী ও তার মিজসিন বিষয়ক মাস্টার ক্লাসটিও এ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

আয়োজকরা আরও জানান, এবারের উৎসবে আন্তর্জাতিক জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন— ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা কমল স্বরূপ, ব্রিটিশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক ও বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র উৎসবের  নির্বাচক নামান রামাচন্দ্রন, লিথুয়ানিয়ার চলচ্চিত্র নির্মাতা লাইনাস মিকু, ইরানের চলচ্চিত্র নির্মাতা সাঈদ নেজাতি, ভারতের বিশিষ্ট প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা-অনির্বাণ লও ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিক্ষক জাহিদুর রহিম অঞ্জন। এছাড়া, নেটপ্যাক জুরি অ্যাওয়ার্ডে নেটপ্যাকের জুরি হিসেবে উপস্থিত হবেন— হংকং এর চলচ্চিত্র তাত্ত্বিক স্যাম হো, তাজাকিস্তানের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অধ্যাপক-সারাফোত আরাবোভা ও বাংলাদেশের নেটপ্যাক সদস্য, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিক্ষক ড. জাকির হোসেন রাজু। উৎসবে পুরস্কারের মূল্য হিসেবে থাকছে শ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈঘ্য প্রামাণ্যচিত্র  একহাজার ইউএস ডলার, শ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্রের জন্য একহাজার ইউএস ডলার, শুধুমাত্র বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতিযোগিতা বিভাগ (অনুর্ধ-১৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের) তারেক শাহরিয়ার বেস্ট ইন্ডিপেনডেন্ট শর্ট ২৫ হাজার টাকা ও নেটপ্যাক জুরি অ্যাওয়ার্ডে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট পাবেন বিজয়ীরা।

এছাড়া, প্রতিটি পুরস্কারের সঙ্গে বিজয়ীদের দেওয়া হবে— প্রখ্যাত শিল্পী কাইউম চৌধুরীর ডিজাইন করা একটি সুদৃশ্য উৎসব স্মারক ও

সার্টিফিকেট। অন্যান্য বারের মতো এবারও ১৫তম উৎসবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আজীবন অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ একজন বাংলাদেশি ব্যক্তিত্বকে উৎসবের পক্ষ থেকে হীরালাল সেন আজীবন সম্মাননা স্মারক দেওয়া  হবে। বাংলাদেশের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংগঠক মোরশেদুল ইসলামকে বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এবারের হীরালাল সেন আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হবে।

আয়োজকরা জানায়, শনিবার (৭ ডিসেম্বর) উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীর শওকত ওসমান মিলনায়তনে বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে। ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় এ উৎসবের মূলকেন্দ্র হিসেবে থাকছে— কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির  সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তন, জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তন এবং অ্যাকাডেমির সেমিনার হলসমুহ।

সংবাদ সম্মেলনে  সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উৎসব সভাপতি বিশিষ্ট নাট্য ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নাসিরুদ্দিন ইউসুফ। এছাড়া, আরও উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জাহিদুর রহিম অঞ্জন, কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংগঠক এনায়েত করিম বাবুল প্রমুখ।

/এসও/এপিএইচ/

লাইভ

টপ