মৃত্যুর পর প্রথম জন্মদিনে...

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:০৬, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২২, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলবীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল স্মরণে তৈরি হলো একটি বিশেষ গান। যা প্রকাশ হবে এই কিংবদন্তির ৬৪তম জন্মদিনে (১ জানুয়ারি, ২০২০)।  
‘সুরের পাখি’ নামের এই গানটির রেকর্ডিং হয় ২৫ ডিসেম্বর। এএইচ পলাশের কথায় গানটির সুর করেছেন মুরাদ নূর। সংগীতায়োজন করেছেন মুশফিক লিটু। আর কণ্ঠ দিয়েছেন রাজীব।
গানটির কথাগুলো এমন—তুমি আছো সবকটা জানালার পাশে/ মিশে রবে সৃষ্টির বিজয় উল্লাসে/তোমার লেখা যতো অবিনাশী গান/ জাদু ভরা সুরে নাচে অসুরের প্রাণ/ তোমায় ভুলি যদি কোনোদিন/ হবে চিরনিন্দিত ভুল/ তুমি বাংলার মুক্তিসেনা/ সুরের পাখি বুলবুল...।
গানটি প্রসঙ্গে কণ্ঠশিল্পী রাজীব বলেন, ‘বুলবুল স্যার বাংলা গানের প্রাণপুরুষ। তার অসাধারণ মৌলিক সৃষ্টিতে বাংলা গান প্রাণ পেয়েছে। সুরকার নূরের এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। গানটিতে কণ্ঠ দিয়ে আমি সম্মানিত।’
সুরকার মুরাদ নূর বলেন, ‘একজন বাঙালি সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে বুলবুল স্যারের প্রতি আমাদের অনেক দায় আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই কাজটি করা। তাছাড়া এবারই প্রথম জন্মদিন, যেদিন স্যারকে ছাড়াই দিনটি পালন করতে হবে। সেই অভাববোধ থেকেও গানটির জন্ম।’
নূর জানান, গানটিকে ঘিরে তারা তৈরি করছেন একটি বিশেষ ভিডিও। যেখানে উঠে আসবে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের বিশেষ কিছু ছবি ও তার বাসার স্মৃতিবিজড়িত দৃশ্য।
আসছে ১ জানুয়ারি ৬৪তম জন্মদিন উপলক্ষে জি-সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত হবে গানটি।
একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
রাজীব ও মূরাদসংগীত জগতে অবদানের জন্য আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে যখন অংশ নেন, তখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর। সত্তরের দশকের শেষদিকে ‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি দেশাত্মবোধক ও অ্যালবামের গানও করেছেন অসংখ্য।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সেই রেললাইনের ধারে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেবো না’, ‘একতারা লাগে না আমার দোতারাও লাগে না’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যিখানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘আমি তোমারি প্রেমও ভিখারি’, ‘ও আমার মন কান্দে’, ‘আমার একদিকে পৃথিবী একদিকে ভালোবাসা’, ‘আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকবো’, ‘আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে’, ‘পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমারই ছোঁয়াতে যেন পেয়েছি’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়, হাজার বছর আগেও বুঝি ছিল পরিচয়’, ‘ওই চাঁদ মুখে যেন লাগে না গ্রহণ’, ‘বাজারে যাচাই করে দেখিনি তো দাম’, ‘আম্মাজান আম্মাজান’, ‘এই বুকে বইছে যমুনা’, ‘সাগরের মতোই গভীর, আকাশের মতোই অসীম’, ‘প্রেম কখনো মধুর, কখনো সে বেদনাবিধুর’, ‘আমার সুখেরও কলসি ভাইঙ্গা গেছে লাগবে না আর জোড়া’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘কী আমার পরিচয়, ঠিকানা কী জানি না’, ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, ‘জীবনে বসন্ত এসেছে, ফুলে ফুলে ভরে গেছে মন’, ‘আমার হৃদয় একটা আয়না’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা, হৃদয়ে সুখের দোলা’, ‘তুমি আমার এমনই একজন, যারে এক জনমে ভালোবেসে ভরবে না’, ‘একাত্তরের মা জননী কোথায় তোমার মুক্তিসেনার দল’, ‘এই জগৎ সংসারে তুমি এমনই একজন’, ‘জীবন ফুরিয়ে যাবে ভালোবাসা ফুরাবে না জীবনে’, ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’, ‘নদী চায় চলতে, তারা যায় জ্বলতে’, ‘ও ডাক্তার, ও ডাক্তার’, ‘চিঠি লিখেছে বউ আমার’, ‘আট আনার জীবন’ প্রভৃতি।

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ