জন্মদিনে জেমসের বার্তা: অস্থির হয়ো না, ধৈর্য ধরো

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ০০:০৩, অক্টোবর ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৩, অক্টোবর ০২, ২০২০

সাম্প্রতিক সময়ের জেমস/ ছবি: র‌্যাফএ পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে দামি সংগীত তারকা হিসেবে অভিহিত করা হয় ফারুক মাহফুজ আনাম জেমসকে। তার গান, মান ও লাইফ স্টাইল আলাদা করে দেয় যে কারও কাছ থেকে। ভক্তকুলে যার মূল পরিচিতি ‘গুরু’ হিসেবে।
আজ (২ অক্টোবর) এই নগর বাউলের জন্মদিন। ভক্তদের তিনি আদর করে ডাকেন, ‘দুষ্টু ছেলের দল’ হিসেবে। জন্মদিনে তাদের উদ্দেশে বাংলা ট্রিবিউন-এর মাধ্যমে বার্তা পাঠান এই বলে, ‘অস্থির হয়ো না, ধৈর্য ধরো।’
নিভৃতচারী জেমস বরাবরই আনুষ্ঠানিকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। এই করোনাকালে সেই দূরত্ব আরও বেড়েছে। জেমস মুখপাত্র রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন জানান, রাত ১২টার পর নিজেদের মধ্যে বাসায় কেক কাটা হলেও হতে পারে। তবে সেটিও নিশ্চিত নয়। এর বাইরে জন্মদিনকে ঘিরে আর কোনও আনুষ্ঠানিকতায় থাকছেন না জেমস।
তবে জেমস ভক্তদল ‘দুষ্টু ছেলের দল’ ঠিকই এদিন বের হবেন ঘর ছেড়ে। রবিন জানান, পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকায় জন্মদিনকে ঘিরে একটি আয়োজন হওয়ার কথা জেনেছেন তিনি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জেমস ভক্তরা মিলাদের আয়োজন করছেন সেখানে। ব্যবস্থা করছেন এতিমদের খাওয়ানোর।
এছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভক্তদের উদ্যোগে হবে নানা আনুষ্ঠানিকতা। যেমনটা হয়েছে আগেও।
জন্মদিনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নগর বাউল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন যে সময় চলছে, এটা আসলে আমাদের জন্য বড় পরীক্ষা। আমরা তো প্রচণ্ড অস্থির। তারই ফল এখন ভোগ করছি। তাই বলে এই ঘরবন্দি সময়ে অস্থির হলে চলবে না। আমাদের আরও ধৈর্য ধরতে হবে। এই দিনে আমার দুষ্টু বন্ধুদের প্রতি একটাই আবেদন, অস্থির হয়ো না, ধৈর্য ধরো। সুদিন ফিরবেই।’
তবে নতুন কোনও গানের খবর এদিনও দিলেন না মৃদুভাষী জেমস। এটুকু জানালেন, হোম স্টুডিওতে প্র্যাকটিস চলছে, গানও সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সেটি প্রকাশের জন্য অস্থিরতা নেই তার। তার ভাষ্যে, ‘সময়টা বড় অস্থির। আরেকটু স্থির হোক।’
সাম্প্রতিক সময়ের জেমস/ ছবি: র‌্যাফবাড়ি ছেড়ে চট্টগ্রামের ১২ বাই ১২ স্কয়ার ফিটের বিউটি বোর্ডিং থেকে শুরু করে ঢাকার ঝকঝকে বারিধারা ফ্ল্যাট- মাঝে টানা ৪০ বছরের সংগীত ভ্রমণ এই রক তারকার। ১৯৮৬ সালে শুরু করেন ব্যান্ড ফিলিংস-এর ‘স্টেশন রোড’ দিয়ে। এরপর ‘জেল থেকে বলছি’ (১৯৯৩), ‘নগর বাউল’ (১৯৯৬), ‘লেইস ফিতা লেইস’ (১৯৯৮) এবং ২০০০ সালে নগর বাউল ব্যান্ড গঠন করে প্রকাশ করেন ‘দুষ্টু ছেলের দল’ (২০০১) অ্যালবামটি। ব্যান্ডের পাশাপাশি একক, মিশ্র অ্যালবাম ও প্লেব্যাকে উপহার দেন অজস্র জনপ্রিয় গান।
জেমসের একক অ্যালবামের ক্যারিয়ার গ্রাফ এমন—‘অনন্যা’ (১৯৮৮), ‘পালাবে কোথায়’ (১৯৯৫), ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’ (১৯৯৭), ‘ঠিক আছে বন্ধু’ (১৯৯৯), ‘আমি তোমাদেরই লোক’ (২০০৩), ‘জনতা এক্সপ্রেস’ (২০০৫), ‘তুফান’ (২০০৬) এবং ‘কাল যমুনা’ (২০০৮)।
এরপর থেকে প্লেব্যাকের বাইরে ব্যান্ড বা একক কোনও গানে পাওয়া যায়নি জেমসকে। এরমধ্যে প্লেব্যাকের জন্য পেয়েছেন দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। শুধু দেশীয় প্লেব্যাক নয়, বলিউডেও রাজত্ব করেছেন এই রকার। তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’ (২০০৫, গ্যাংস্টার), ‘চল চলে’ (২০০৬, ও লামহে), ‘আলবিদা’ (রিপ্রাইস), ‘রিশতে’ (২০০৭, লাইফ ইন আ মেট্রো) এবং ‘বেবাসি’ (২০১৩, ওয়ার্নিং থ্রিডি) গানগুলো এখনও বিশ্বের বিভিন্ন মঞ্চ ও টিভি রিয়েলিটি শোতে উঠে আসছে নানাভাবে।
গানের বাইরেও গেল ক’বছর জেমস মন বসিয়েছেন ছবি তোলায়। তার ফটোগ্রাফির বিষয়, মডেল, নাগরিক জীবন ও প্রকৃতি। যে ছবিগুলোর মাধ্যমে নেটিজেনদের গানের তৃষ্ণা অনেকটাই মেটান ছবিয়াল জেমস।     
ব্যক্তিজীবনে জেমস তিন সন্তানের জনক। স্ত্রী বেনজির সাজ্জাদকে নিয়ে ভালোই আছেন তিনি।

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X