আকাশে কাতর আঁখি তুলে ঝরাপালকের ছবি দেখা কবি জীবনানন্দ দাশের সমগ্র জীবন কেবল নির্জনতায় মোড়া নয়, এক দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া হৃদয়ের অব্যক্ত চিৎকারও বটে। যিনি রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কবিতায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন, যিনি বাংলা সাহিত্যে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মোনালিসার মতো, শেক্সপিয়ারের ডার্ক লেডি কিংবা এডগার অ্যালেন পোয়ের হেলেনের মতো রহস্যঘেরা, সাড়া জাগানো চরিত্র ‘বনলতা সেন’ নির্মাণ করেছেন তাকে নিয়ে, তার সৃষ্ট তামসিক ও বিস্ময়কর নারী সেই বনলতা সেনকে নিয়ে সম্প্রতি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল।
প্রথমেই দুটি কারণে নির্মাতাকে ধন্যবাদ জানাতে হয়: এক, একটি কবিতাকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র নির্মাণের এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশে একেবারে অভিনব না হলেও, বনলতা সেনের মতো আপাত দুর্বোধ্য কিন্তু জনপ্রিয় কবিতাকে পুঁজি করে চলচ্চিত্রিক অভিযাত্রা শুরু করা এক সাহসের কাজ।
বিশেষ করে যেখানে জীবনানন্দ বিশেষজ্ঞ ও প্রেমীরা তাদের প্রিয় কবি সম্পর্কে বেশ সংবেদনশীল। দ্বিতীয় কারণ হলো, নির্মাতা কবির জীবনীকে স্রেফ সরলরৈখিক বয়ানে উপস্থাপন করেননি, বরং তার যন্ত্রণাক্লিষ্ট বেঁচে থাকার ভেতর কবিতা কেমন করে অবলম্বন হয়ে ফিরে ফিরে এসেছে, কেমন করে কবির অচেতনের বোধের ভেতরে কবিতার জন্ম নিয়েছে, সেটিও দৃশ্যের তর্জমায় উদ্ভাসিত করেছেন।
পাঠকের মনে যেভাবে কবিতার দৃশ্যকল্প হানা দেয়, ‘বনলতা সেন’ চলচ্চিত্রেও সেই একই ব্যাপার লক্ষ্য করা গেছে। টুকরো টুকরো কিছু ধ্বনিচিত্র দর্শকের মন ও মগজে দাগ কেটে যেতে বাধ্য, যেমন: চলচ্চিত্রের শুরুতেই এডগার অ্যালেন পোয়ের লেখা ‘টু হেলেন’ কবিতার হেলেনকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা কাব্যের হেলেনের প্রায় কাছাকাছি নিয়ে যায় আমাদের। বিষ্ণু দে’র অনুবাদে ‘টু হেলেন’ কবিতাটিকে উদ্ধার করা যেতে পারে:
হেলেন, তোমার রূপ মনে হয়
সেকালের ভিনীসীয় তরুণীর মতো,
সুগন্ধ সমুদ্র- বক্ষে শান্ত ধীরে বয়
ক্লান্ত প্রবাসীকে দীর্ঘ পথশ্রমাহত
আপন স্বদেশে সমাগত।
কত না দুরন্ত সিন্ধুবিহারের পরে
তোমার অতশী কেশ, ক্লাসিক বয়ান,
নেয়াড্ তোমার লাস্য, মোরে আনে ঘরে
গ্রীসে, চিরগৌরবের আদিপীঠস্থান
আর রোমে আছিল যে বৈভবশিখরে।
দেখি বাতায়নবেদীতে উদ্ভাস
আভঙ্গে খোদাই স্তব্ধ স্থির মূর্তি তুমি।
মর্মরের দীপ বলে করপুট চুমি
আহা সাইকি! সেই দেশে তোমার নিবাস
সে যে পুণ্যভূমি।
অ্যালেন পোয়ের এই হেলেনের পরিচয় সকলেই জানতেন, তিনি ছিলেন কবির ১৩ বছরের বড় এক নারী জেন স্টিথ স্ট্যান্ডার্ড, কবির কৈশোরক প্রেম। কিন্তু জীবনানন্দের বনলতা সেনের কোনো পরিচয় পাওয়া যায় না। তাই তাকে খোঁজার অভিযান দিয়েই শুরু হয় চলচ্চিত্রটি।
কবিতায় বর্ণিত অপরূপা হেলেনের কাছে এক ক্লান্ত পথিক যেভাবে তৃষ্ণা নিবারণ করতে আসে, ঠিক একই ভঙ্গিতে জীবনানন্দ দাশও যেন দুদণ্ডের শান্তি যাচনা করে পেয়েছিলেন বনলতার কাছ থেকে। কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রই প্রথম বনলতা সেনের সাথে ‘টু হেলেন’ কবিতার সাদৃশ্যের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু পোয়ের হেলেন যেমন রক্তমাংসের মানুষ থেকে এক পৌরাণিক চরিত্রে পরিণত হয়, জীবনানন্দ দাশ করলেন ঠিক উল্টো, তিনি অনাদিকালের এক অভিযাত্রিককে পুরাণ ও ইতিহাসের হাজার বছরের পথ ঘুরিয়ে এনে হাজির করেন বর্তমানে, এক সাধারণ রক্তমাংসের নারীর সামনে, যে নারী কবির খুবই পরিচিত, নাটোরে তার নিবাস।
জীবনানন্দের বনলতাকে খুঁজতে থাকা যে যুবকটিকে আমরা চলচ্চিত্রে দেখি, তার অন্বেষণের ভেতর দিয়েই নির্মাতা আমাদের জানাতে থাকেন কেমন করে বনলতা বাসা বাঁধতে থাকে কবির মানসপটে।
তিনি খুব চমৎকার করেই দর্শকের মনে প্রশ্ন তৈরি করতে থাকেন: বনলতা আসলে কে? সে কি কবির খুড়তুতো বোন শোভনা, স্ত্রী লাবণ্য, কোনো রূপাজীবা, নাকি অস্তিত্যহীন কল্পনায় জন্ম নেওয়া স্রেফ এক নারীমূর্তি? নির্মাতা এক চমৎকার ঘোর তৈরি করতে করতে আমাদের নিয়ে যান অন্তিম প্রস্থানের দিকে।
এই ঘোর তৈরির কালে আমরা দেখি হেলেন সমন্বয় করার চেষ্টা করছেন পানিভর্তি ছয় বালতি—ষঢ়রিপু। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্যের সবটা দেখানো না গেলেও, কবির অল্পবয়সের কাম, জীবনে কিছু করতে না পারার ক্রোধ, সংসার জীবনে সফল হওয়ার লোভ, কাব্যের প্রতি মোহ বেশ ভালোভাবেই উঠে এসেছে চলচ্চিত্রে। আমরা আরও দেখি মহীনের ঘোড়াগুলি কেমন করে কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে ঘাস খায়, আমরা দেখি কেমন করে একের পর এক দৃশ্যের জন্ম দিয়ে কবি চলে যান ফাল্গুনের রাতের আধারে এক লাশকাটা ঘরে, মরে যাওয়ার সাধ হয় তার।
চলচ্চিত্রে বনলতার অন্বেষণ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে জীবনান্দের সম্পর্কের জায়গাটিও বেশ গুরুত্বের সাথে আনা হয়েছে। জীবনানন্দের থাকার ঘরে রবীন্দ্রনাথের ছবি আমরা দেখতে পাই, পাশাপাশি আরো গুরুত্বপূর্ণ দুটি দৃশ্যে আমরা দেখি রবীন্দ্রনাথকে প্রাসঙ্গিক করে তুলে ধরা হয়েছে।
জীবনানন্দ নিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’ পাঠিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথকে, পাঠপ্রতিক্রিয়ায় একটু কড়া কথাই লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই কড়া কথার জবাব লিখলেও, জীবনানন্দ সেটি আর পাঠাননি রবীন্দ্রনাথকে। এই দৃশ্যটি ঠিকঠাকভাবে এলেও আমার কাছে সমস্যাসঙ্কুল লেগেছে শেষের দিকে রবীন্দ্রনাথকে যীশু খ্রিস্টের আসনে অধিষ্ঠিত করার বিষয়টি। তদুপরি যিশুর শেষভোজকে জীবনানন্দ বিদ্বেষী, অসূয়াপূর্ণ ও বুদ্ধিজীবী সভায় পরিণত করাটাও বিসদৃশ মনে হয়েছে।
দৃশ্যের অবতারণাটি যদিও চমক সৃষ্টি করে, কিন্তু মৃত্যুপথযাত্রী কবির কল্পনার সাথে সাদৃশ্য রচনা করে না। ধরুন যীশুর শেষভোজের কাহিনিটি যদি ধরি, সেই দিনটি ছিল যীশুর জন্য অত্যন্ত বেদনার একটি দিন। সেই ভোজে যীশু ঘোষণা দিচ্ছেন তার শিষ্যদের ভেতরেই একজন বিশ্বাসঘাতকতা করবেন এবং সেটা অর্থের জন্য।
এই ভোজের পরই শুরু হবে তার ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার রক্তাক্ত ও ক্লান্তিকর দীর্ঘযাত্রা। তো যীশু এখানে নিজেই এক পরিস্থিতির শিকার, সেখানে জীবনানন্দ কেন নিজেকে যীশুর পরিস্থিতির বিপরীতে চিন্তা করবেন? কেনই বা সেই শেষভোজে যীশুর জায়গায় রবীন্দ্রনাথকে বসিয়ে দুজনকেই খলনায়কে পরিণত করা হবে?
বলা হচ্ছে জীবনানন্দের জীবনের এই শেষ পরিণতি, অর্থাৎ হতাশা আর আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে ওঠার পেছনে রবীন্দ্রনাথ মূলত দায়ী এবং তার সহযোগী হিসেবে রয়েছেন সজনীকান্ত দাস, ভূমেন্দ্র গুহ, বুদ্ধদেব বসু প্রমুখ।
অথচ আমরা জানি ভূমেন্দ্র গুহ কবির সকল রচনা পরম যত্নের সাথে পাঠকের সামনে পরবর্তী সময়ে সুসম্পাদনার পর তুলে ধরেছিলেন। বুদ্ধদেব বসু তো রীতিমতো লড়াই করেছেন জীবনানন্দ যে একজন আধুনিক কবি সেটি প্রমাণ করার জন্য। আর রবীন্দ্রনাথ কিন্তু পরবর্তীকালে জীবনানন্দের প্রশংসাই করেছেন।
জীবনানন্দের ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতা পড়ে রবীন্দ্রনাথ বুদ্ধদেব বসুকে বলেন: “জীবনানন্দ দাশের চিত্ররূপময় কবিতাটি আমাকে আনন্দ দিয়েছে।” এরপর ধূসর পাণ্ডুলিপির পাঠ প্রতিক্রিয়ায় জীবনানন্দকেই রবীন্দ্রনাথ সরাসরি লিখে ফেলেন “তোমার লেখায় রস আছে , স্বকীয়তা আছে এবং তাকিয়ে দেখার আনন্দ আছে।”
আমার ধারণা নির্মাতা জীবনানন্দের মুখোমুখি রবীন্দ্রনাথকে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন ফরহাদ মজহারের কাছ থেকে। ফরহাদ মজহার ‘রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্রপাঠ’ বইতে দেখিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মনিব বা জমিদারযুগের কবি, তিনি জমিদারদের প্রতিনিধিত্ব করতেন।
অন্যদিকে জীবনানন্দ ছিলেন কেরানি যুগের কবি, তাদের কিছু হারাবার ভয় ছিলো না। রবীন্দ্রনাথের মতো ক্ষয়িষ্ণু জমিদারদের হারাবার ভয় ছিল। আমি মনে করি এই শ্রেণিগত অবস্থান রবীন্দ্রনাথে কাব্যবিচারকে আচ্ছন্ন করে দিতে পারে না। কারণ মনে রাখা জরুরি, জীবনানন্দ যখন বই পাঠাচ্ছেন, ১৯২৭ সালে, তার চৌদ্দ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পেয়ে গেছেন। কজেই তার জীবনানন্দকে শ্রেণির জায়গা থেকে হেয় করা বা কাব্য প্রতিভার জায়গা থেকে হিংসে করার প্রশ্নই আসে না।
তাছাড়া জীবনানন্দ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে একাধিক লেখা লিখেছেন এবং সেখানে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তার মুগ্ধতাই প্রকাশ পেয়েছে। যেমন ‘রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে জীবনানন্দ লিখছেন, “তাঁর প্রতিভার ভিতর এমন অলৌকিক ধীশক্তি ও তার নিপুণ প্রয়োগবৈচিত্র্যের বৈশিষ্ট্যতা রয়েছে যে, এই দুইটি ধারার নিবিড় সামঞ্জস্য তাঁকে এক জন অসাধারণ গীতিকবিতার শ্রেণি থেকে অলোকসামান্য বিশ্বকবির পর্যায়ে উন্নীত করেছে। দান্তে এই রকম এক জন শাশ্বত রসসাহিত্যিক কবি, শেক্সপীয়র আর-এক জন, এবং জার্মান কবি গ্যেটে আর এক জন।”
এরকম লাইনের পর লাইন প্রশস্তি জীবনানন্দ করেছেন রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে। কাজেই চলচ্চিত্রে যে বিরোধাভাস দেখানো হয়েছে দুই কবির ভেতর সেটা অযৌক্তিক এ অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়েছে।
এতটুকু জায়গা বাদ দিলে নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের চলচ্চিত্রটি আর কোনো জায়গায় বিতর্কের জন্ম দেয় না। বরং কিছু চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা করে। আমার ভালো লেগেছে বালুময় প্রান্তরে বই বিছানো অবস্থায় জীবনানন্দ কল্পনায় ভেবে নিচ্ছেন ক্লান্ত পথিক আর বনলতা সেনকে।
দৃশ্যটি রুশ পরিচালক সের্গেই প্যারাজেনোভের ‘দি কালার অব পমগ্রেনেটস’ দ্বারা অনুপ্রাণীত হলেও, স্বকীয়তা যোগ করতে পেরেছেন নির্মাতা। এছাড়া সমুদ্রসৈকতের দৃশ্য অথবা ঘরের ভেতরের দৃশ্যগুলোতে আলো-আঁধারির অনুপাত একদম ঠিকঠাক ছিল। তবে বৌদ্ধ মন্দির ও ভিক্ষুদের দৃশ্যটি অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। এই দৃশ্যের গ্রাফিক্সও অতোটা মানসম্পন্ন হয়নি। যেমন ভালো হয়নি শেষভোজের দৃশ্যে জীবনানন্দের শয্যা থেকে অজস্র কমলালেবুর গড়িয়ে পড়ার গ্রাফিক্সটি। এখানে কমলালেবুর এমন ট্রিটমেন্ট একেবারেই দরকার ছিল না।
আমরা জানি শাহাদুজ্জামান ‘একজন কমলালেবু’ লিখে জীবনানন্দ আলোচনায় শীতকালের ফলটিকে ফোকাসে এনে দিয়েছিলেন, কিন্তু আদতে ঘটনা হলো হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কবি কমলালেবু খেতে চেয়েছিলেন। আর তারও আগে মৃত্যুচিন্তা সম্বলিত এক কবিতায় কমলালেবু উপস্থিত হয়েছিল, কবিতাটির নামও ছিল ‘কমলালেবু’। কবিতাটি এমন:
একবার যখন দেহ থেকে বার হয়ে যাব
আবার কি ফিরে আসব না আমি পৃথিবীতে?
আবার যেন ফিরে আসি
কোনো এক শীতের রাতে
একটা হিম কমলালেবুর করুণ মাংস নিয়ে।
কোনো এক পরিচিত মুমূর্ষুর বিছানার কিনারে।
তো এই কবিতা ও অন্তিমশয্যায় চাওয়া কমলালেবুকে যদি মেলাতে চাই, তাহলে দেখানো যেতে পারে কবি জীবনের প্রতি আকুতি প্রকাশ করেছেন, তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বটে, কিন্তু নিদেনপক্ষে একটি কমলালেবু হয়ে তিনি আবার ফিরে আসতে চান এই অপরূপ পৃথিবীতে।
জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করা খায়রুল বাসার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কবির দেহভাষাকে বহন করে নিয়ে গেলেও, কোথাও কোথাও আড়ষ্ট বলে মনে হয়েছে। সেই তুলনায় হেলেন কিংবা বনলতা সেনের ভূমিকায় অভিনয় করা মাসুমা রহমান নাবিলা ছিলেন সাবলীল। সোহেল মণ্ডলকে বাদ দিলে অন্যদের অভিনয় গড়পরতা, মন্দ ছিলো না। তবে সব মিলিয়ে মনে হয়েছে আরো কাজ করার অবকাশ ছিলো।
রিদয় সরকারের চিত্রগ্রহণ কোথাও কোথাও আমাদের চোখে আনন্দ ও শান্তি এনে দিয়েছে। সঙ্গীত পরিচালনায় গোটা ছবিতে একটি আবহ বজায় থাকলেও মাঝখানে লাশকাটা ঘর ও কবির আত্মহত্যা করতে যাওয়ার দৃশ্যটিতে বাপ্পা মজুমদারের গাওয়া ‘এখানে কেউ নেই’ গানটি ভীষণরকম খাপছাড়া মনে হয়েছে। এই গানটির বদলে ধ্রুপদী কোনো সঙ্গীত, যেমন মোৎজার্টের ‘রিকুয়েম’ বা এরকম কিছুকে অবলম্বন করা যেত বলে মনে হয়।
আর বাদবাকি সবকিছু চমৎকার। নির্মাতা যে এমন একটি বিষয়কে বেছে নিয়েছেন এবং এমনভাবে উপস্থাপনের কথা ভেবেছেন সেজন্য ধন্যবাদ তো আগেই দিয়েছি, আবারো ধন্যবাদ দিয়ে তাকে আরো বড় করতে চাই।





