গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মেঘদল’র গিটারিস্ট ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার রাশিদ শরীফ শোয়েব। ডেঙ্গুর পাশাপাশি ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি।
এদিকে দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়ে মায়ের জমানো সঞ্চয়পত্র ভেঙে নিজের চিকিৎসার খরচ চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।
ফেসবুকে এক পোস্টে শোয়েব জানান, সাত দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি তিনি। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘অবস্থা ভয়ানক। জানি না কবে বাসায় যেতে পারবো। দোয়া রাইখেন।’
অসুস্থতার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শোয়েব। তার দাবি, ২০১১ সালে নিকেতনে মিউজিশিয়ান ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করার পর থেকে নিয়ম মেনে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করায় ধীরে ধীরে কাজের পরিমাণ ও পরিধি বেড়েছে। তবে সময় মতো পারিশ্রমিক সংগ্রহ না করা এবং তার সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া জমেছে।
শোয়েবের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞাপনচিত্র (টিভিসি, ওভিসি), ওয়েব সিরিজ ও সিনেমার সাউন্ড এবং মিউজিকের কাজ বাবদ তার পাওনা অর্থের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার কম নয়।’
নিজের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘কিছু দিন আগে আমার স্টুডিও আপগ্রেড, এখন আমার চিকিৎসা ব্যয়ের খরচ চালাতে হচ্ছে মায়ের জমানো টাকা দিয়ে। কী বীভৎস বাস্তবতা! এই ইন্ডাস্ট্রি তার ট্যালেন্টদের যে জায়গায় রাখে, এই হচ্ছে তার নমুনা।’
তবে এখনই কারও নাম প্রকাশ করেননি শোয়েব। বকেয়া পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্টদের অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত সময় দিয়েছেন তিনি।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি এই পোস্টে এখনই কাউকে মেনশন করছি না। এই মাসটা সময় দিচ্ছি আপনাদের। ধুলো পড়া ফাইলগুলো বের করে হালনাগাদ করে অক্টোবরের শুরুতে স্টুডিওতে চা খেয়ে যান। আর টাকাগুলো সসম্মানে পরিশোধ করে যান।’
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না করলে পরবর্তী সময়ে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন এই গিটারিস্ট। তিনি লেখেন, ‘আমার দীর্ঘ লেখা পাঠের পরেও যদি আপনাদের টনক না নড়ে, তাহলে আরকি, নিজেদের ইমেজের যে রঙিন লুঙ্গি সেটা ত্যানা বানিয়ে দিবো। খোদার কসম! পারলে সামলায়েন।’
উল্লেখ্য, শোয়েব ‘হাওয়া’, ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘রইদ’র মতো আলোচিত সিনেমার সাউন্ড ও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি মিউজিশিয়ান ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি।





