নব্বই দশকে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। সে সময় একাধিক বিদেশি সিরিয়াল বাংলা ভাষায় প্রচারে আসে। ‘আলিফ লায়লা’র মধ্য দিয়েই সেই যাত্রার শুরু হয়। বলা যায়, নব্বই দশকে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের কাছে আজও বিটিভির বাংলা ভাষায় বিদেশি সিরিয়ালগুলো মনে দাগ কেটে আছে।
বাংলা ট্রিবিউনের পাঠকদের জন্য বিটিভির জনপ্রিয় চারটি সিরিয়ালের তথ্য তুলে ধরা হলো-
আলিফ লায়লা
১৯৯৩ সালে আরব্য রজনীর গল্প অবলম্বনে হিন্দি ভাষায় নির্মিত হয়েছিল ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘আলিফ লায়লা’। পরে এটি বাংলায় ডাব করে বিটিভিতে প্রচার শুরু হলে দর্শকদের মাঝে আলোড়ন তোলে। ভারতীয় প্রযোজনা সংস্থা সাগর এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের ব্যানারে সুভাষ সাগরের প্রযোজনায় সিরিয়ালটি নির্মাণ করেন আনন্দ সাগর, প্রেম সাগর ও মতি সাগর।
দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব সিন্দবাদ
এই কানাডিয়ান সিরিয়ালটি সিন্দবাদ, মেভ ও লঙ্গারের দুঃসাহসিক অভিযানের জন্য কিশোর-তরুণদের মাঝে ক্রেজ তৈরি করেছিল। বিটিভিতে ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের দিকে এটি প্রচারিত হয়েছিল। এটি নির্মাণ করেন এড নাহা। একটি দুঃসাহসিক অভিযানকে কেন্দ্র করে এর গল্প আবর্তিত হয়। সেখানে সিন্দবাদ ও তার ভাইয়ের নেতৃত্বে একদল নাবিকের অভিযান বর্ণিত হয়েছে। তাদের যাত্রাপথে তারা বিভিন্ন জাদুকরী চরিত্র, যেমন ডাইনি ও জাদুকর, অপরিচিত উপজাতি এবং পৌরাণিক প্রাণীদের সম্মুখীন হয়। এতে সিন্দবাদ চরিত্রে অভিনয় করেন জেন জেসনার।
দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চার্স অব রবিনহুড
ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ লুটে নিয়ে নিপীড়িত সাধারণ মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া রবিনহুডের গল্প আমরা কমবেশি সবাই শুনেছি। সেই গল্পের সূত্র ধরেই ১৯৯৭ সালে নির্মাণ করা হয় ‘দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চার্স অব রবিনহুড’। এতে রবিনহুড চরিত্রে অভিনয় করেন ম্যাথু পোরেট্টা। আলিফ লায়লা ও অন্য সিরিয়ালগুলোর পাশাপাশি এটিও দর্শকের মধ্যে সে সময় দারুণ সাড়া ফেলে।
টিপু সুলতান
ইংরেজদের অত্যাচারে জর্জরিত ভারতবর্ষের কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয় ‘টিপু সুলতান’। সঞ্জয় খান পরিচালিত এই সিরিজের নাম–ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পরিচালক নিজেই। ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই সিরিজের শুটিংয়ে আগুন লেগে ৬২ জন কলাকুশলী মারা যান। গুরুতর আহত হয়ে প্রায় এক বছর হাসপাতালে ছিলেন সঞ্জয় খান নিজেও। বিটিভিতে জনপ্রিয় সিরিয়ালগুলোর মধ্যে এটিও অন্যতম।









