ব্রেক্সিটের পক্ষে গণভোটের রায়ের পর সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্যের রাজনীতি। প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েছেন দেশটির বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। দলের ছায়া মন্ত্রিসভার অনেকে পদত্যাগ করার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। এমনকি দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তার আস্থা ভোটের প্রস্তাবও আনা হয়েছে। তবে নেতৃত্ব পর্যায়ে বিরোধিতা মুখে পড়লেও সমর্থনে এগিয়ে এসেছে হাজারো কর্মী-সমর্থক। সোমবার পার্লামেন্ট ভবনে দলীয় বৈঠকের সময় কয়েক হাজার মানুষ করবিনের সমর্থনে জড়ো হন। বৈঠক শেষে সমবেত মানুষের প্রতি দেওয়া বক্তব্যে করবিন ঐক্যবদ্ধভাবে বর্ণবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানায়, সোমবার লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের সমর্থনে পার্লামেন্টের বাইরে সমবেত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এ সময় পার্লামেন্ট ভবনে লেবার পার্টির দলীয় বৈঠকে করবিনের বিরুদ্ধে আস্থা ভোটের প্রস্তাব আনা হয়। বৈঠক শেষে সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেন করবিন। পুলিশ জানায়, ওই জমায়েতে হাজির ছিলেন অন্তত ১০ হাজার সমর্থক।
আরও পড়ুন: 'দেশে ফিরে যাও'- ব্রেক্সিটের পর বেড়েছে জাতিগত ও বর্ণবিদ্বেষ
করবিন একটি ফায়ার ইঞ্জিনের ওপর দাঁড়িয়ে সমর্থকদের প্রতি বক্তব্য রাখেন। তিনি তার সমর্থকদের প্রতি পার্টির ভেতরে ও বাইরে সমন্বিতভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। তবে দলে তার নেতৃত্ব নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিয়ে কিছুই উল্লেখ করেননি তিনি।
সমবেত জনতার প্রতি করবিন প্রশ্ন রাখেন, ‘বর্ণবাদের বিরোধিতায় আমরা কি এক জনতা, এক সমাজ ও এক গোষ্ঠীতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি?’
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘যারা আমাদের বিভক্ত করতে চাইছে তাদের ঠেকাতে হবে।’ তিনি ‘গণমাধ্যম’ ও ‘যারা বিভক্ত করতে চাইছে’ তাদের কথা উল্লেখ করেন।
তবে তার নেতৃত্ব ও পদত্যাগকে কেন্দ্র করে থেকে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক ঘটনাগুলোর কোনও উল্লেখ করেননি তিনি। বলেন, ‘আমরা যেমন পৃথিবী চাই তার জন্য সংঘবদ্ধ, দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ থাকুন।’
ব্রেক্সিটের পর নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধিতায় করবিনের সমর্থনে প্রথম এগিয়ে আসেন ছায়া মন্ত্রিসভার চ্যান্সেলর জন ম্যাকডনেল। তিনি বলেন, ‘জেরেমি করবিন গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে দেখছি গুটিকয় সংসদ সদস্যের কারণে লেবার পার্টি নেতাদের এই গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি স্পষ্ট বলতে চাই, করবিন কোথাও যাচ্ছেন না, তিনি থাকছেন।’
আরও পড়ুন: ব্রেক্সিটের পর ইইউ নেতাদের মুখোমুখি হচ্ছেন ক্যামেরন
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোটের রায়ের পর ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি বেনকে লেবার পার্টি থেকে বহিস্কারের পর তার অনুসরণে ১১ জন ছায়ামন্ত্রী ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে লেবার দলের দুই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ করবিনের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছিলেন। তবে করবিনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তিনি পদত্যাগ করছেন না। করবিন মনে করেন,ব্রেক্সিট প্রশ্নে জনগণের এই অবস্থান লেবার রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে এসেছে। আবাসন, কর্মসংস্থান, সুরক্ষা, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রশ্নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিকল্প হাজির করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
করবিনের মতে, দলে যারা তার প্রতি অনাস্থা এনেছেন,তাদের সেই কাজ বাদ দিয়ে লেবার রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা পালন করা উচিত। উল্লেখ্য, দলের তৃণমূল কর্মীদের নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে লেবারদের নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের আলাদা না হওয়ার পক্ষে অর্থাৎ ‘রিমেইন’ শিবিরের হয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন। তবে ব্রিটিশ জনগণের রায় এর বিপক্ষে যাওয়ার পর দলীয় নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন তিনি। সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
/ইউআর/এএ/








