নাইন ইলেভেন কিংবা টুইন টাওয়ার হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত প্রতিবেদনটি ৮৩৮ পৃষ্ঠার। তবে এর ২৮ টি পৃষ্ঠা রয়ে গেছে অপ্রকাশিত। এ নিয়ে বহুদিন থেকে নানা রহস্য, নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। অনেকেরই ধারণা, ওই হামলায় সৌদি সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই ওই ২৮ পৃষ্ঠা প্রকাশ করেননি সৌদি মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
তবে এবার গোপনীয় তথ্য সম্বলিত ২৮ পৃষ্ঠার সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে ইউএস কংগ্রেস। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ওবামা প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন কর্মকর্তা তাদের এসব কথা জানিয়েছেন। তবে এতে সৌদি সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরী হয়েছে। কেননা ‘নুন্যতম পরিবর্তন’সহ এটি প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে। এখন কথিত ন্যূনতম পরিবর্তনের পর এটি প্রকাশ করা হলে তার মধ্যে সৌদি আরবকে নিস্কৃতি দেওয়ার চেষ্টা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেননা এরআগে সিআইএ ডিরেক্টর সৌদি আরবকে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
আরও পড়ুন: ‘একটা ট্রাক অস্ত্রে রূপান্তরিত হয়ে বহু মানুষ হত্যা করলো’
গত মে মাসের ১ তারিখে তিনি বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার গোপন তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। সংস্থার পরিচালক জন ব্রেনান মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি-র ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এ দাবি করেন।তিনি ওই তদন্ত প্রতিবেদনের গোপন ২৮ পৃষ্ঠাকে ‘জনশ্রুতি ও ভুল তথ্যে ভরা’ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, শুক্রবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ২০০২ সাল থেকে গোপনে সংরক্ষিত কংগ্রেসের ওই তদন্ত প্রতিবেদন। উচ্চ পর্যায়ের ওই প্রতিবেদনে ‘নির্দিষ্ট সূত্র থেকে ১১ সেপ্টেম্বর হামলায় বিদেশি শক্তির সমর্থন থাকা’র বিষয়ে তথ্য রয়েছে।
গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘোষণা দেন, তার ক্ষমতাকালেই প্রকাশিত হবে ওই গোপনীয় নথি। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর জেমস ক্ল্যাপার জানিয়েছিলেন, জুনের মাঝামাঝি প্রকাশিত হতে পারে প্রতিবেদনের ওই গোপন অংশ।
কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর বব গ্রাহাম ওবামা প্রশাসনের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশের কথা জানতে পারেন।তিনি বলেন, ‘আশা করি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে সম্মান জানানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি মানুষের কাছে সহজলভ্যও করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে ওই ১৯ জনই কেবল নীলনকশা প্রণয়নে ছিলেন নাকি তাদের সহায়তা করা হয়েছিলো?’
তবে তিনি আরও জানান, মধ্য জুনের নির্দিষ্ট তারিখের পর প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আর ফোনে সাড়া দেননি।
এদিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তারা জানান, ‘নুন্যতম পরিবর্তন’সহ প্রকাশ করা হচ্ছে ২৮ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন।
দ্বিদলীয় ওই তদন্তে অংশ নিয়েছিলেন সাবেক ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান টিম রোমার, তিনি ওই প্রতিবেদনটিকে ‘প্রাথমিক পুলিশ প্রতিবেদন’ বলে আভিহিত করেন।তিনি বলেন, ‘সূত্র, অভিযোগ ও সাক্ষী রয়েছে, হাইজ্যাকার ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে প্রমাণও রয়েছে- সব রকম উপাদান নিয়েই ৯/১১ কমিশনের তদন্ত পরিচালিত হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ওবামা প্রশাসনের ওপর ওই প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে চাপ রয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের কংগ্রেস সদস্যরাই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
এদিকে, সৌদি সরকার সূত্রের দাবি, তারাও প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছেন যাতে করে তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পায়। সূত্র: সিএনএন
/ইউআর/বিএ/








