গোপনে ১৩ হাজার বন্দিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে সিরিয়া: অ্যামনেস্টি

বিদেশ ডেস্ক
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩:০৪আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৭:৪৮
image

৮৪ প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে সিরিয়ার দামেস্কের কাছে একটি কুখ্যাত কারাগারে পাঁচ বছরে ১৩ হাজার মানুষকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। ‘একটি গোষ্ঠীকে নির্মূল করে দেওয়ার জন্য সরকারি নীতিমালার’ অংশ হিসেবে এসব ফাঁসি কার্যকর করা হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সামিল বলে উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি। এখনও সিরিয়ায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) ‘হিউম্যান স্লটারহাউস: ম্যাস হ্যাংগিং এন্ড এক্সটারমিনেশন অ্যাট সায়েদনায়া প্রিজন’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি। নিরাপত্তারক্ষী, বন্দি ও বিচারকরাসহ ৮৪ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে মানবাধিকার সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সিরিয়ার কুখ্যাত সায়েদনায়া কারাগারে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ৫০ জনের মতো একটি দলকে বিধিবহির্ভূতভাবে বিচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হতো। তাদেরকে পেটানোর পর মাঝরাতে গোপনে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। লাশগুলো গোপনে লরিতে করে নিয়ে যাওয়া হতো। পরে তাদের গণকবর দেওয়া হয়।

সেনা পরিচালিত সায়াদনায়া বন্দিশালাটি দামেস্ক থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সিরিয়ার সবচেয়ে বড় বন্দিশালা এটি। ফাঁসির ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন এমন এক সাবেক বিচারক অ্যামনেস্টিকে জানান, ১০-১৫ মিনিট ধরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হতো। কম বয়সীদের ওজন কম হওয়ায় তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যেত না। তাদেরকে নিচে টেনে ঘাড় ভেঙে দেওয়া হতো।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুরো প্রক্রিয়া চলার সময় বন্দিদের চোখ বাঁধা থাকতো। কখন এবং কিভাবে তাদের হত্যা করা হবে তাও জানতেন না বন্দিরা। অ্যামনেস্টি জানায়, যাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে তারা বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক এবং আসাদ সরকারের বিরোধী।

অ্যামনেস্টির অভিযোগ, সায়াদনায়া কারাগারের বন্দিদেরকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিংবা একে অপরকে ধর্ষণে বাধ্য করা হয়েছে।  

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, সিরিয়ায় ৫ বছরের গৃহযুদ্ধে ৪ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গরহারা হয়েছে লাখ লাখ মানুষ।

/এফইউ/

 

সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম