মানব পাচারের দায়ে থাই জেনারেলের ২৭ বছরের কারাদণ্ড

বিদেশ ডেস্ক
১৯ জুলাই ২০১৭, ২২:৪৯আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৭, ২৩:১৩

মানাস কংপেন মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে থাই সেনাবাহিনীর এক লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। মানাস কংপেন নামের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানব পাচার ছাড়াও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি মানবপাচারকারীদের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ রুট থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

জেনারেল মানাস কংপেন পাচারকারীদের কাছ থেকে থাই মুদ্রায় ১৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন বাথ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি ৫৬ লাখ। এই অর্থের বিনিময়ে তিনি পাচারকারীদের জঙ্গলের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ক্যাম্পে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিতেন।
মোট ১০৩ অভিযুক্তের বাকিদের বিরুদ্ধেও ১৯ জুলাই বুধবার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিস্তারিত রায় পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজনীতিক এবং পুলিশ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

দোষী সাব্যস্ত হওয়া অন্যদের আন্তঃদেশীয় অপরাধ, বলপূর্বক আটকে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া এবং ধর্ষণের দায়ে মতো অপরাধ সংঘটনের দায়ে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মানব পাচারের দায়ে থাই জেনারেলের ২৭ বছরের কারাদণ্ড

২০১৫ সালে থাই-মালয়েশীয় সীমান্ত এলাকার জঙ্গলে গণকবর শনাক্তের পর পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মানাস কংপেন, পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং মিয়ানমারের নাগরিকরা রয়েছেন। ওই ঘটনার পর মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় পাচার করার এবং আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়গুলো সামনে আসে। ওই বছরই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাচারকারীরা বিভিন্ন ক্যাম্পে শরণার্থীদের জিম্মি হিসেবে আটকে রাখে এবং স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ছাড়ে না। অনেকেই শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হন। তখন সেইসব শরণার্থীদের মানবেতর ক্যাম্পে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায় পাচারকারীরা। তবে এখন পর্যন্ত গণকবর শনাক্ত হওয়া এবং ময়না তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি থাইল্যান্ড।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ২০১৫ সালের ধরপাকড় বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর পাচারকারী নেটওয়ার্কের অনেকগুলোই অধরা রয়েছে। ফর্টিফাই রাইটসের নির্বাহী পরিচালক অ্যামি স্মিথ বলেন, “আমরা মনে করি ওই ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে পাচারকারী সংগঠনগুলোকে কেবল ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া গেছে। কিন্তু এখনও সেগুলো বেশ সক্রিয় আছে।” সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি।

/এমপি/

সম্পর্কিত
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম