সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের শূন্য আসনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপ-নির্বাচনে তার ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ প্রার্থিতা পেলেও নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। বুধবার (২ আগস্ট) পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের ইস্যু করা একটি আচরণবিধির আওতায় তাকে নির্বাচনি আসন পরিদর্শন ও প্রচারণায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনের ওই আচরণবিধিকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন খবরটি জানিয়েছে।
গত ২৮ জুলাই সম্পদের তথ্য গোপন করার দায়ে সুপ্রিমকোর্টে নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করেন তিনি। জাতীয় পরিষদের ১২০ নম্বর আসনটি ছিল নওয়াজের। লাহোরের ওই শূন্য আসনে ১৭ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি আচরণবিধি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
ওই আচরণবিধিতে বলা হয়, ‘নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, সিনেটের চেয়ারম্যান ও ডেপুটি চেয়ারম্যান, স্পিকার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্যের মন্ত্রী, গভর্নর, মুখ্যমন্ত্রী, প্রাদেশিক মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং সরকারের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কোনও নির্বাচনি এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারবেন না। প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে তারা কোনও অনুদান দিতে পারবেন না কিংবা এ ধরনের অনুদানের প্রতিশ্রুতিও দিতে পারবেন না। তাছাড়া কোনও প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ওই এলাকায় কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্প শুরুর ঘোষণাও দেওয়া যাবে না এং নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা যাবে না।’
অর্থাৎ এ আচরণবিধি অনুযায়ী, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কোনও ব্যক্তি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর ওই আসন কিংবা ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যেতে পারবেন না। কেউ ওই আচরণবিধি ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ১৯৭৬ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১০৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের শূন্য আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন না ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিবেচনাকে আমলে নিয়ে তিনি ওই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করছেন।
পিএমএল-এন এর সূত্রকে উদ্ধৃত করে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, জাতীয় পরিষদের-১২০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে পাঞ্জাবের জ্যেষ্ঠ নেতারা শাহবাজকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। পাঞ্জাবের নেতারা মনে করছেন এ আসনে শাহবাজকে পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ দলের প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হবে। এ নির্বাচনে যদি নেতিবাচক ফলাফল আসে তবে তা দলের অবস্থানকে দুর্বল করবে।
বেনামি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, পাঞ্জাবের নেতাদের দেওয়া পরামর্শের সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন শাহবাজ। তবে নিজে নিজেই তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। আর এর জন্য সামনের দিনগুলোতে নওয়াজের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করার কথা ভাবছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু নির্ভর করছে নওয়াজের ওপরই।
/এফইউ/








