ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনে প্রতীক হয়ে ওঠা কিশোরী আহেদ তামিমিকে আটকের মেয়াদ তৃতীয়বারের মতো বাড়িয়েছে ইসরায়েলি আদালত। দখলদার ইসরায়েলি সেনাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগে ১৬ বছরের এই কিশোরীকে গ্রেফতার করা হয়। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক বিবৃতির বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, আহেদ তামিমি ও তার মা নারিমানকে আরও আট দিন আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিবৃতিতে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ইসরায়েলি সেনাদের হুমকি, সেনাকে আক্রমণ, সেনাদের দায়িত্ব পালনে বাধা, প্ররোচনা ও সম্পত্তি নষ্ট করা। তামিমির মায়ের বিরুদ্ধেও এসব অভিযোগের পাশাপাশি ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশ করে অন্যদের এসব কাজে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানির অংশ হিসেবে তাদের আটকের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। তবে তার কাজিন নূরকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য জামিন দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে তামিমির এমন দুঃসাহসিক অবস্থান নেওয়া একটি ভিডিওটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। তার মুক্তির জন্য যুক্তরাজ্য থেকে মিসরে আওয়াজ উঠেছে। তিনি হয়ে ওঠেছেন ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তি আন্দোলন ও তৃতীয় ইন্তিফাদার প্রতীকী চরিত্র। ফিলিস্তিনি ও ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের সমর্থকরা ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের নারী নেত্রী হিসেবে অভিহিত করছেন। ১৯ ডিসেম্বর ভোর রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় আহেদ তামিমিকে। এর কিছুক্ষণ পরই তার মা ও কাজিনকে আটক করা হয়।
সর্বশেষ ঘটনাটিই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আহেদ তামিমির প্রথম দ্বন্দ্ব নয়। এর আগে ২০১২ সালে ১১ বছর বয়সে তার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। একটি ছবিতে তার মা ও চাচির সঙ্গে মিলে ইসরায়েলি সেনার হাত থেকে তার চাচাত ভাই মোহাম্মদকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। ছবিতে দেখা যায়, আহেদ ভাইকে বাঁচাতে এক ইসরায়েলি সেনার হাতে কামড় দিচ্ছে। ওই ছবি প্রকাশের দুই বছর পর আহেদকে তুরস্কে হানদালা সাহসিকতা পুরস্কার দেওয়া হয়। তখন তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান তার সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন। দখলদারিত্বের বিরোধিতা করায় আহেদের বাবা, মা ও ভাইদেরকেও ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকবার গ্রেফতার করেছিল।
২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির পরই নতুন করে রাজপথে নামে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা। বিপরীতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নারী ও শিশুসহ গ্রেফতার করা হয়েছে ৬ শতাধিক মানুষকে। এমনকি ছোট শিশুদের ধরে নিয়ে খাঁচায় বন্দি করে রাখার মতো বর্বরোচিত ঘটনাও ঘটেছে।







