পুলিশ ও প্রতিরক্ষা প্রধানদের দুষছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট

বিদেশ ডেস্ক
২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৫২আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০১

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাথিরপালা সিরিসেনা দাবি করেছেন, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা প্রধানরা হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে তাকে আগে থেকে কিছু জানায়নি। হামলার আগাম তথ্য থাকার পরও তা প্রতিহত করার ব্যর্থতা নিয়ে যখন তীব্র সমালোচনা হচ্ছে, সেই সময় তিনি এমন মন্তব্য করলেন। এরআগেই হামলা ঠেকানোর ব্যর্থতা প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের দ্বন্দ্বের খবর সামনে এসেছিল। সে সময় মন্ত্রী পরিষদের একজন সদস্য অভিযোগ করেছিলেন, হামলা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। সরকারের একজন মুখপাত্র দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে সাড়া দেয়নি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।




শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট মাথিরপালা সিরিসেনা

রবিবার (২১ এপ্রিল) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে বিস্ফোরক দিয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) পর্যন্ত ৩৫৯ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হলেও শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সে সংখ্যা ভুল বলে জানায় শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছে, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা ২৫৩। আহত হয়েছে ৫০০ জনেরও বেশি। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব-সতর্কতা সত্ত্বেও বিস্ফোরণের ঘটনায় সে দেশের সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যকার সমন্বয়হীনতার খবরটি জোরালোভাবে প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে হামলা-পূর্ববর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার পূর্ব দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্য বলছেন, প্রধানমন্ত্রী হামলার ব্যাপারে অন্ধকারে ছিলেন। সরকারের আরেক মুখপাত্রের বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অগ্রাহ্য করার অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা হামলার নেপথ্য কারণ হিসেবে সরকারের দুই অংশের এই বিভাজনকে দায়ী করছেন।

প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা বলেন, লঙ্কান তরুণরা ২০১৩ সাল থেকেই সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ  পুলিশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার কোনও তথ্য তাকে দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্টই প্রতিরক্ষা বিভাগের সর্বাধিনায়ক। একইসঙ্গে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীও। অথচ তার দাবি অনুযায়ী, তার কাছে হামলার আগাম কোনও তথ্য ছিল না। প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমেসিংহের সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি বলেন, তার জন্যই গোয়েন্দা সংস্থা দুর্বল হয়ে গেছে। তারা তামিল টাইগারদের সময় যুদ্ধকালীন সময়ে সামরিক কর্মকর্তাদের সাজা নিয়েই বেশি ব্যস্ত। 

গত বছর একটি রাজনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কায় বিভাজন দেখা গিয়েছিল। তখন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহেকে সরিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে স্থলাভিষিক্তের প্রচেষ্টা চালানোর পর ওই রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। অবশ্য, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে ডিসেম্বরে বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী পদে পুনর্বহাল করা হয়। তবে তারপরও সরকারের ভেতরে যোগাযোগগত ব্যর্থতা থেকে যাওয়ার ইঙ্গিতই সামনে এসেছে। 

/এমএইচ/বিএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম