ইন্দোনেশিয়ায় বিগত সাত বছর ধরে আটক এক রোহিঙ্গাকে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে দেশটির এক মানবাধিকার সংস্থা। ইমান হোসেন নামে ৫৩ বছর বয়সী ওই রোহিঙ্গাকে রাজধানী জাকার্তায় এক বন্দিশিবিরে আটক রাখা হয়েছে।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের বড় অংশটি বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও কারও কারও প্রচেষ্টা থাকে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেওয়ার। সেভাবেই ইন্দোনেশিয়া গিয়েছিলেন ইমান। ২০১২ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এরপর থেকেই সেখানে আটক আছেন তিনি।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা ইন্দোনেশিয়া কনসার্ন গ্রুপ ফর রোহিঙ্গার আইনজীবী আন্দি আমিন আসেগাফ বলেন, হুসেন জাতিসংঘের নিবন্ধিত শরণার্থী এবং মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার। তিনি বলেন, ইমানকে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থায় হস্তান্তর করা দরকার ছিলো যেন তার শরণার্থী অধিকার নিশ্চিত হয়।
তবে আটক থাকার কারণে স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে দূরে রয়েছেন ইমান হুসেন। তার পরিবার এখন ইন্দোনেশিয়ার বন্দরনগরী মাকাসারে বসবাস করছেন।
মানবিকভাবে ইমানের সঙ্গে আচরণের আহ্বানও জানান তার আইনজীবী। তিনি বলেন, মাকাসারে ১৬০ জন রোহিঙ্গাকে অন্য একটি দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চরছে। সেখানে অনেক শিশু রয়েছে যাদের স্কুলে যাওয়ার কথা। কিন্তু এটা দুঃখজনক যে তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।








