মানবদেহে করোনার পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগ শুরু করলো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়

বিদেশ ডেস্ক
২৪ এপ্রিল ২০২০, ১৬:১৬আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ১৬:২৪
image

প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনাভাইরাসের পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে ইউরোপ। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুইজন স্বেচ্ছাসেবীর দেহে এ টিকা প্রয়োগ করে। গবেষণার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে আট শতাধিক মানুষের দেহে এ পরীক্ষা চালানো হবে। বিজ্ঞানীদের আশা, ‘চূড়ান্ত পরীক্ষা’ সফল হলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মিলে যাবে প্রতিষেধক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতীকী ছবি

কোভিড-১৯ এর টিকা আবিষ্কারের জন্য জানুয়ারি থেকে গবেষণা শুরু করেছিল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জেনার ইনস্টিটিউট’ ও ‘অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ’। পরীক্ষামূলকভাবে তাদের আবিষ্কৃত প্রতিষেধক টিকাটি প্রয়োগের জন্য ৮০০ এর বেশি স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার শরীরে টিকা গ্রহণকারী দুইজনের একজন হলেন এলিসা গ্রানাটো। তিনিও এক জন বিজ্ঞানী। জানিয়েছেন, বিজ্ঞান গবেষণায় সাহায্য করতেই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের দু’দলে ভাগ করা হয়েছে। এক দলকে কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। অন্য দলকে মেনিনজাইটিসের। কাকে কী দেওয়া হচ্ছে, অংশগ্রহণকারীদের জানানো হবে না। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গবেষক দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এ প্রতিষেধক নিয়ে প্রচণ্ডরকমের আশাবাদী। অবশ্যই এটা নিয়ে আমাদের পরীক্ষা করতে হবে এবঙ মানুষের কাছ থেকে এ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আমাদেরকে নিশ্চিত হতে হবে যে এটি আসলে কাজ করেছে এবং তখন আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে পারব।’

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এর আগে গিলবার্ট বলেছিলেন, টিকাটি কাজ করবে বলে তিনি ৮০ ভাগ নিশ্চিত। তবে এখন তিনি এভাবে আর বলতে চাইছেন না। এখন গিলবার্ট বলছেন টিকাটি নিয়ে ‘খুব আশাবাদী’ তিনি। 

অক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিনটির নাম ‘চ্যাডক্স১’। এটি  অ্যাডিনোভাইরাস থেকে তৈরি।  অ্যাডিনোভাইরাস একটি সাধারণ সর্দি-জ্বরের ভাইরাস, যার উৎপত্তি শিম্পাঞ্জিদের থেকে। ভাইরাসটিকে ভেক্টর বা বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ভেক্টর ভ্যাকসিন হল এমন এক ধরনের প্রতিষেধক, যাতে  ক্ষতিকর ভাইরাসটির  নিউক্লিক অ্যাসিড একটি বাহক জীবাণু -এর সাহায্যে মানুষের দেহে প্রবেশ করানো হয়। বাহক জীবাণুটি ভাল, তারা কোনও ক্ষতি করে না। দেহে ঢুকে তারা খারাপ ভাইরাসটির নিউক্লিক অ্যাসিডের সাহায্যে কিছু প্রয়োজনীয় প্রোটিন ( স্পাইক প্রোটিন) তৈরি করে ফেলে। প্রোটিনগুলোকে ঠেকাতে মানুষের শরীর তখন অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শুরু করে। রোগ হওয়ার আগেই দেহে সে রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে যায়। এই পদ্ধতিটি বাচ্চা থেকে বয়স্ক, এমনকি অসুস্থদের জন্যেও নিরাপদ বলে দাবি করেছেন অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা।     

 

 

/এফইউ/
সম্পর্কিত
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
৫৩০০ বছর পরও মমিতে জীবিত অণুজীব
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী