ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জন উনকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ দিতে দেশটিতে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পাঠিয়েছে চীন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কিম জং উনের ‘মারাত্মক অসুস্থ’ হওয়ার খবর প্রচারের পর চীনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে চিকিৎসক দল পাঠানোর খবর দিলো রয়টার্স। তবে চীন এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি দেয়নি।
স্থানীয় পত্রিকা ডেইলি এনকে অসমর্থিত সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল– গত বছরের আগস্ট থেকেই কিম হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। পায়েকতু পাহাড় থেকে ঘুরে আসার পর থেকে তার সেই সমস্যা আরও প্রকট হয়। এ সংবাদের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে কিমের অসুস্থতার প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে।
শনিবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক লিয়াজো বিভাগের শীর্ষ নেতা বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশে বেইজিং ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে রয়েছেন একদল চিকিৎসক। চীনের পররাষ্ট্র বিভাগের এ নেতা উত্তর কোরিয়া সংক্রান্ত বিষয়ের দেখভাল করেন। রয়টার্স দাবি করেছে, চীনের ওই সূত্র এ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য দিতে রাজি হয়নি। এমনকি তাৎক্ষণিক চেষ্টায় লিয়াজো বিভাগের কোন নেতারও মন্তব্য সংগ্রহে সমর্থ হয়নি ওই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম।
উত্তর কোরিয়া সারাবিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকায় কিমের অসুস্থতার খবরের সত্যতা যাচাই একরকম অসম্ভব। এ সংক্রান্ত গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে তদন্ত শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সূত্র জানায়, কিমের অসুস্থতার খবর সত্য নয়।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'আমি মনে করি কিমের অসুস্থতার খবরটি সত্য নয়'। এদিকে শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, কিম জং উন জীবিত আছেন। শিগগির তিনি জনসম্মুখে উপস্থিত হবেন। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোন তথ্য জানাতে রাজি হয়নি ওই সূত্র।
উল্লেখ্য, এপ্রিলের ১৫ তারিখ কিম জং উন তার দাদার জন্মদিনে জাতীয় উৎসবে এবং উত্তর কোরিয়ার মিসাইল উৎক্ষেপনের সময় উপস্থিত ছিলেন না। ৩৬ বছর বয়সী কিম প্রায় ১ মাস জনসম্মুখে না আসায় তার অসুস্থতার গুঞ্জনটি জোরালো হয়। অবশ্য জনসম্মুখে না আসার এমন প্রবণতা কিম জং উনের নতুন নয়। এর আগে ২০১৪ সালে কয়েক মাস কোন মিডিয়ায় দেখা যায়নি তাকে।
কিমের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খবরের বিপরীতে এখন পর্যন্ত চীনের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।








