দুজনের ইলেক্টোরাল ভোট সমান হলে কী হবে?

বিদেশ ডেস্ক
০৫ নভেম্বর ২০২০, ০১:২০আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ০৩:২৭

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সারা দুনিয়া। ৩ নভেম্বর ভোটগ্রহণ শেষ হলেও চূড়ান্ত ফল পেতে এখনও বেশ কিছুটা বিলম্বের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী জনগণের সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়ায় এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের নানা প্রশ্ন রয়েছে। এসব প্রশ্নের বেশ কয়েকটির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। দুজনের ইলেক্টোরাল ভোট সমান হলে কী হবে?

ইলেক্টোরাল ভোট সমান হলে কী হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা মূলত ভোট দিয়ে ইলেক্টোরাল ভোটার নির্বাচন করেন। আর তারাই চূড়ান্তভাবে প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করে থাকেন। দেশটিতে মোট ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ৫৩৮টি। মূলত জনসংখ্যার ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য ইলেক্টোরাল ভোট নির্দিষ্ট করা আছে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্রার্থীরই ২৬৯টি করে ইলেক্টোরাল ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদিও এর সম্ভাবনা কম।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট যদি কোনও প্রার্থীই না পান তাহলে প্রেসিডেন্ট নির্ধারণের ক্ষমতা চলে যাবে মার্কিন কংগ্রেসের হাতে। এই বছর নির্বাচিত হওয়া কংগ্রেস সদস্যদের দায়িত্ব হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা।

প্রতিনিধি পরিষদ বা কংগ্রেসে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে প্রেসিডেন্ট। কংগ্রেসে প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে একজন করে সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ফলে সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন হবে ২৬টি ভোট।

আর ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট। সেখানে একশ’ জন সিনেটরের সবাই একটি করে ভোট দিতে পারবেন।

ট্রাম্প কি ফলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করতে পারবেন?

হ্যাঁ। উভয় প্রার্থীর প্রচার শিবিরই ইতোমধ্যে নির্বাচনের পর আইনি বিরোধ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যেই ভোট পুন গণনার দাবি করার অধিকার তাদের রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হলে পুনগণনার দাবি করা হয়।

এই বছর ডাক যোগে ভোট দেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এর এসব ব্যালটের বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এইসব আইনি বিরোধ শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে পৌঁছাতে পারে- যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত আইনি ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে।

২০০০ সালে ফ্লোরিডার ভোট পুনগণনা বন্ধ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেবার রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশের পক্ষে আদালত রায় দিলে তিনি প্রেসিডেন্ট হয়ে যান।

ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পদ্ধতি বাদ দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিধান করা কতটা কঠিন?

ইলেক্টোরাল পদ্ধতি মার্কিন সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এই পরিবর্তন আনতে হলে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন।

সেই সংশোধনী সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কিংবা রাজ্যের আইনসভায় একই অনুপাতে অনুমোদিত হতে হবে। তারপর সেই সংশোধনী যুক্তরাষ্ট্রের তিন চতুর্থাংশ অঙ্গরাজ্যে অনুমোদিত হতে হবে।

এতগুলো ধাপ পেরিয়ে ওই বিধান পরিবর্তনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম, যদিও অতীতে এই পদ্ধতির পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে।

ইলেক্টোরাল কলেজের সদস্য কারা, কিভাবে তাদের বাছাই করা হয় আর তারা কতদিন দায়িত্ব পালন করে?

প্রতিটি নির্বাচনেই রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট পার্টি সাধারণত ইলেক্টোরাল কলেজের সদস্যদের মনোনীত করে। প্রতিটি রাজ্যেই তাদের মনোনয়নে নিয়ম আলাদা আর ভোটগ্রহণের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়।

ইলেক্টোরাল কলেজ সদস্যরা ইলেক্টর নামে পরিচিত। মূলত এদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলের সংযোগ থাকে যেমন অ্যাকটিভিস্ট বা সাবেক রাজনীতিবিদও হতে পারেন।

২০১৬ সালে ডেমোক্র্যাটিক ইলেক্টরদের মধ্যে ছিলেন বিল ক্লিন্টন আর রিপাবলিকানদের তরফে ডোনাল্ড ট্রাম্পও ছিলেন সেই তালিকায়।

ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে স্পষ্ট বিজয়ী নির্ধারণ না হলে প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ কে করবেন?

ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে স্পষ্ট বিজয়ী না হওয়ার অর্থ হতে পারে সামগ্রিকভাবে ফলাফল সমান হয়ে গেছে কিংবা বিরোধপূর্ণ রাজ্যের আইনি চ্যালেঞ্জের নিরসন না হওয়ায় সেখানকার ইলেক্টর নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রেসিডেন্ট নির্ধারণের দায়িত্ব পাওয়া ইলেক্টোরাল কলেজের বৈঠক এই বছরের ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই প্রতিটি রাজ্য থেকেই ইলেক্টর নির্বাচন সম্পন্ন হতে হবে।

নির্বাচনের ফলাফল যদি সেই পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ থেকে যায় আর নির্দিষ্ট রাজ্যগুলো ইলেক্টর নির্ধারণ করে উঠতে না পারে তাহলে মার্কিন কংগ্রেস হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

মার্কিন সংবিধান চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করে রেখেছে। প্রেসিডেন্ট (এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের) ক্ষমতার মেয়াদ ২০ জানুয়ারি দুপুরে শেষ হয়ে যাবে।

তখনও যদি কংগ্রেস জয়ী প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করতে না পারে তাহলে আইনে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্ধারণের বিধান রাখা আছে।

সেই তালিকার প্রথমেই রয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার- বর্তমানে এই দায়িত্বে আছেন ন্যান্সি পেলোসি, এরপরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সিনেটের সর্বোচ্চ স্থানপ্রাপ্ত সদস্য-বর্তমানে সেই দায়িত্বে আছেন চার্লস গ্রাসলি।

তবে এই ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি ফলে বাস্তবে এটা কিভাবে কাজ করবে তার উদাহরণ এখনও তৈরি হয়নি।

ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নির্ধারণে জাতীয় ভোটের প্রভাব কেমন?

জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় ভোটের হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। নির্বাচিত হন মূলত বেশিরভাগ রাজ্যে জয় পাওয়ার ভিত্তিতে।

প্রতিটি রাজ্যে জয়ী প্রার্থী সেই রাজ্যের জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত ইলেক্টরদের সমর্থন পান।

ভোট গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসব ইলেক্টররা বৈঠকে বসে ইলেক্টোরাল কলেজ গঠন করেন। আর তারাই আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট মনোনীত করেন। হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে হয়।

/জেজে/বিএ/
সম্পর্কিত
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান