পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৮০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ক্ষমতায় রয়েছে খানের দল। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ছিলো রাজধানীতে গণজমায়েত তৈরি করে খানের মুক্তির জন্য চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি ক্ষমতাসীন জোটের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নাকভি বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সংঘর্ষ শুরু হলে, শুক্রবার থেকে পুলিশের ৮০ জনেরও বেশি সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় ইসলামাবাদকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মোবাইল যোগাযোগ পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইসলামাবাদের কাছে পরবর্তী দুই সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের পাকিস্তান সফরসহ বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক ইভেন্ট রয়েছে। এজন্য বেশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে সরকার।
বিক্ষোভে সহিংসতা এড়াতে পুলিশকে অস্ত্র বহনে নিষেধ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন নাকভি। ইসলামাবাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার।
সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমরান খানের সমর্থকরা। তাদের দাবি, পিটিআই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চায়।
১৫ ও ১৬ অক্টোবর চীন, রাশিয়া ও ভারতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সাঙ্ঘাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনসহ (এসসিও) আরও কয়েকটি কূটনৈতিক বৈঠকের কারণে শহরে যেকোনও রকম জমায়েৎ আয়োজনের কয়েকদিন বিলম্ব করতে পিটিআই-কে আহ্বান জানিয়েছিলেন নাকভি।
শনিবার নাকভি দাবি করেন, এসসিও সম্মেলনে বিঘ্ন ঘটিয়ে মনোযোগ আকর্ষণের পরিকল্পনা করছে পিটিআই। কর্তৃপক্ষের কাছে এবিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
ইসলামাবাদের বিক্ষোভ কেবল একদিনের জন্য ছিল বলে দাবি করেছে পিটিআই। শনিবার লাহোরে আরেকটি জনসভা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।








