ভারতে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন কলকাতা পুলিশের সাবেক সিভিক ভলানটিয়ার সঞ্জয় রায়। ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সমস্ত প্রমাণ ও নথি যাচাই করে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) তাকে দোষী সাব্যস্ত করে শিয়ালদহ আদালত।
সঞ্জয় নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে বিচারক অর্নিবান দাস বলেছেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আপনি স্পষ্টভাবে দোষী।শাস্তি আপনাকে পেতেই হবে।
শাস্তির ধরণ সম্পর্কে আভাস দিয়ে বিচারক আরও বলেছেন, এই অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
শুনানির সময় আদালত কক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। সঞ্জয়কে আদালত কক্ষে উপস্থিত করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে পুলিশের।
হট্টগোল নিয়ন্ত্রণে এনে সঞ্জয়ের উদ্দেশে আদালত বলেন, ঘটনার দিন ভোরবেলা হাসপাতালে প্রবেশ করে দায়িত্বরত চিকিৎসককে আক্রমণ করার অভিযোগ রয়েছে আপনার বিরুদ্ধে। তার ওপর চালানো শারীরিক ও যৌন নির্যাতনে মারা যান ওই চিকিৎসক।
এ পর্যায়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সঞ্জয় বলেন, আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। শুনানি শেষে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময়ও নিজেকে চিৎকার করে নির্দোষ দাবি করে অভিযুক্ত ব্যক্তি বলেন, এক আইপিএস অফিসার সব জানেন। সে সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায় আইনজীবীদের।
আগামী সোমবার সঞ্জয়ের বক্তব্য পর্যালোচনা ও শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
গত ৮ আগস্ট নাইট ডিউটিতে ছিলেন ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ওই চিকিৎসক। পরদিন ভোরে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ব্যাপক জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম তাকে ‘অভয়া’ বলে উল্লেখ করে আসছে।
ঘটনার পরদিনই সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরে তাকে সিবিআইয়ের হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়।
সঞ্জয় ছাড়াও আরজি করের অধ্যক্ষ সন্দ্বীপ ঘোষ ও স্থানীয় থানার সাবেক সদস্য অভিজিৎ মণ্ডলকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে সিবিআই ওই অভিযোগ নিয়ে আর সামনে না আগানোর ফলে ৯০ দিনের মধ্যে জামিন হয়ে যায় তাদের।









