বেলজিয়ামে বেড়াতে আসা দুই ইসরায়েলিকে গাজায় যুদ্ধাপরাধের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক করেছে দেশটির পুলিশবাহিনী। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার (২০ জুলাই) বেলজিয়াম ঘুরতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন দুই ইসরায়েলি। তাদের একজন সেনাসদস্য এবং অন্যজন বেসামরিক নাগরিক। অবশ্য জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
গ্রেফতারের কারণ উল্লেখ না করে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। ওই দুজনের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে।
ইসরায়েলি নাগরিকদের গ্রেফতার করা হয়েছিল দুটি মানবাধিকার সংস্থা হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন (এইচআরএফ) এবং গ্লোবাল লিগ্যাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (গ্ল্যান) দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে। সংস্থা দুটি গত সপ্তাহে গাজায় যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযোগটি দায়ের করে।
এইচআরএফের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেলজিয়ামে একটি সংগীত উৎসবে যোগ দিতে এসেছিলেন ওই দুই ইসরায়েলি। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।
তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার কথা নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম প্রসিকিউটরের কার্যালয়।
দুই ইসরায়েলি নাগরিককে ভিন দেশের মাটিতে গ্রেফতারের ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ এক অগ্রগতি অভিহিত করেছে মানবাধিকার সংস্থা দুটো।
এইচআরএফের তরফ থেকে বলা হয়, গাজা নিয়ে বেশিরভাগ দেশ যখন মুখে কুলুপ এঁটে থাকে, তখন স্পষ্ট একটা বার্তা দিলো বেলজিয়াম। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় নিজেদের এখতিয়ার বুঝে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে বেলজিয়াম। তাদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার: আন্তর্জাতিক অপরাধের গ্রহণযোগ্য প্রমাণ থাকলে রাজনৈতিক উদাসীনতা পরিহার করে আইনি জবাব দিতে হবে।
বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ গাজা নিয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করার পরদিনই দুই ইসরায়েলি পর্যটককে আটকের ঘটনা ঘটলো। রবিবার এক বক্তব্যে গাজার পরিস্থিতিকে মানবতার লজ্জা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন ফিলিপ। সেখানকার অবর্ণনীয় সংকট অবিলম্বে সমাধানের জন্য জাতিসংঘের আহ্বানের প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল








