‘জেন-জি’ বা জেনারেশন জেড, যাদের একসময় একটি অভিন্ন প্রজন্ম হিসেবে দেখা হতো, তারা এখন আর এক নেই। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মহামারির প্রভাবে এই প্রজন্ম কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গবেষক র্যাচেল জ্যানফাজা এই দুই উপ-প্রজন্মকে চিহ্নিত করেছেন ‘জেন-জি ১.০’ এবং ‘জেন-জি ২.০’ হিসেবে।
‘জেন-জি ১.০’ সদস্যরা কোভিড-১৯ মহামারির আগে হাইস্কুল শেষ করেছেন। তাদের বেড়ে ওঠার সময়টায় টিকটক বা বর্তমানের মতো প্রযুক্তির ব্যাপক প্রভাব ছিল না এবং ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’-এর মতো সাংস্কৃতিক আন্দোলন তাদের চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করেছে। অন্যদিকে, ‘জেন-জি ২.০’-এর সদস্যরা মহামারি চলাকালীন বা তার পরে স্নাতক হয়েছেন। মাস্ক পরা, কোয়ারেন্টিন এবং অনলাইন বা রিমোট লার্নিংয়ের অভিজ্ঞতায় তাদের স্কুলজীবন গড়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক ইতিহাসে অন্য কোনও প্রজন্ম এই নজিরবিহীন মহামারির মধ্য দিয়ে যায়নি। যোগাযোগ ও সংস্কৃতির ধরন এত দ্রুত পরিবর্তিত হতে দেখেনি আর কোনও প্রজন্ম।
২০২৪ সালে এসে দুই উপ-প্রজন্মের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দেয়। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের ইয়ুথ পোল অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক মতাদর্শে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। যদিও আগের বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি তাদের সমর্থন বেশি ছিল, এখন সেই চিত্রে বড় ধরনের উলটপালট দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে, তরুণ পুরুষদের মধ্যে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞ আমান্ডা এডেলম্যানের মতে, জেন-জি ১.০ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় বেড়ে ওঠায় অনেকটা ডানপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু ২.০ ভার্সনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এক ধরনের ‘চরম প্রতিক্রিয়া’। এই ডানমুখী প্রবণতাকে কেবল রক্ষণশীলতা বলা যাবে না, বরং একে বর্তমান ব্যবস্থার প্রতি ‘ক্ষোভ ও বিদ্রোহ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তরুণদের আস্থার জায়গাটিও আগের চেয়ে নড়বড়ে। জেন-জি ২.০ সাংবাদিক, সিইও এবং অন্যান্যদের প্রতি তুলনামূলক কম আস্থাশীল। মহামারি চলাকালীন নীতিমালার কারণে নিজেদের ‘গিনিপিগ’ মনে করা তরুণদের আস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে।
তরুণ ভোটাররা তথাকথিত সাংস্কৃতিক বিতর্ক নিয়ে আর খুব একটা মাথা ঘামাতে চায় না। বরং কলেজের উচ্চ ব্যয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মতো ‘বাস্তব সমস্যা’ সমাধানের দিকেই তাদের ঝোঁক বেশি। ভোটার্স অব টুমরোর জেস সাইলস মনে করেন, গণতন্ত্রের প্রতি এই মোহভঙ্গতা পুরো প্রজন্মের মধ্যেই কমবেশি বিদ্যমান।
গবেষক র্যাচেল জ্যানফাজা এবং আমান্ডা এডেলম্যানের মতে, জেন-জি এখন একটি বিভক্ত প্রজন্মে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি, ডেটিং সংস্কৃতি, পররাষ্ট্রনীতি এমনকি জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে। এই বিভাজন কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং ভবিষ্যতের রাজনীতির নতুন সমীকরণ। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই বিভাজন দিন দিন আরও গভীর হতে থাকবে, যা একসময় জেন-জি-এর ঐক্যের স্মৃতিকে কেবল অতীতের পাতাতেই সীমাবদ্ধ করে দেবে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস









