যুক্তরাজ্যের অন্যতম ব্যস্ত রেলপথ মিডল্যান্ড রুটে একটি উচ্চগতির ট্রেন থেমে থাকা আরেকটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দিলে চালকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮৯ জন। তাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, ভয়াবহ এ দুর্ঘটনাকে ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ বা বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বেডফোর্ডের কাছে এলস্টো এলাকায় শনিবার ভোর পর্যন্ত উদ্ধার ও তদন্তকাজ চলছিল।
পুলিশের ডেপুটি চিফ কনস্টেবল স্টুয়ার্ট ক্যান্ডি বলেন, জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ জুন) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে কর্বি থেকে লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাসগামী একটি ট্রেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নটিংহাম থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৩টা ৫০ মিনিটে নটিংহাম থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি লাইনে থেমে ছিল।
চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত ৮৯ জনের মধ্যে ১১ জন আঞ্চলিক ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আরও ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঠিক আগে চলন্ত ট্রেনটির গতি কমানোর কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। এমনকি কোনও সতর্কীকরণ হর্নও বাজেনি। সংঘর্ষের তীব্রতায় থেমে থাকা ট্রেনটির একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার নিহত চালকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে রেল অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ (আরএআইবি)। তদন্তে উভয় ট্রেনের সুরক্ষা ব্যবস্থা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং ডেটা লগ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি চলন্ত ট্রেন একই লাইনে আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনের ব্লকে প্রবেশ করলো, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়।
এছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়া ট্রেনটির সঙ্গে আঞ্চলিক রেল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের যোগাযোগ এবং অটোমেটিক ওয়ার্নিং সিস্টেমে (এডব্লিউএস) কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর মিডল্যান্ড মেইন লাইনের লুটন ও বেডফোর্ডের মধ্যবর্তী সব রেললাইন বন্ধ রাখা হয়েছে। লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাস থেকে ছেড়ে যাওয়া ও সেখানে আসা সব ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
নেটওয়ার্ক রেলের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, লাইনচ্যুতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ট্র্যাক ও ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইন মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
এদিকে রেল কর্মীদের ট্রেড ইউনিয়নগুলো চলমান ট্রেনের স্বয়ংক্রিয় ‘ফেইল-সেফ’ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে দেশব্যাপী জরুরি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে।









