যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অংশ হিসেবে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের প্রার্থিতা বাছাই প্রক্রিয়াকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থিতা প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি কলোরাডোতে প্রতিদ্বন্দ্বী টেড ক্রুজের কাছে হেরে যাওয়ার পর সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অঙ্গরাজ্যটির প্রার্থিতা বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রাইমারি কিংবা ককাস পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও কলোরাডো খানিকটা আলাদা। কলোরাডোতে রিপাবলিকানদের প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষমতা মূলত দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হাতে। তারাই প্রার্থীদের মাঝে ডেলিগেটস বণ্টন করে থাকেন। আর এ জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন আদায় করে নেন ক্রুজ। আরও পড়ুন: উইসকন্সিন অঙ্গরাজ্যে ক্রুজ-স্যান্ডার্সের জয়
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কলোরাডোতে ক্রুজ যেভাবে সবগুলো ডেলিগেটস জিতে নিয়েছে তাতে তিনি ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা কোনও ভোট দেননি। এটি একটি কুটিল চুক্তি। এ ব্যবস্থাটি কারচুপিপূর্ণ ও কুটিল। এভাবে গণতন্ত্র বজায় থাকে না।’
ওয়াইওমিং-এ স্যান্ডার্সের জয়, রিপাবলিকান শিবিরে ক্রুজের চমক
কলোরাডোতে রিপাবলিকানদের জ্যেষ্ঠ নেতারা ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ট্রাম্পকে প্রার্থিতা দেওয়া হলে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম। অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গিরও সমালোচনা করেছেন তারা।
অবশ্য এখনও রিপাবলিকানদের হয়ে প্রার্থিতার দৌড়ে ট্রাম্পই এগিয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত প্রার্থিতা বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মনোনয়নের জন্য ট্রাম্পকে ১২৩৭ জন ডেলিগেটসের সমর্থন পেতে হবে। আর সেদিক থেকে ট্রাম্প যে প্রার্থিতার দৌড়ে টিকে যাবেন তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প আর ক্রুজ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে কাজ করছেন!
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থিতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রাইমারি ও ককাস নামের দুইটি পদ্ধতির মধ্য দিয়ে সেখানে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার প্রাথমিক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রাইমারি হচ্ছে প্রথাগত নির্বাচন, যেখানে দিনব্যাপী গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আর ককাস হচ্ছে দলের নিবন্ধিত ভোটার ও কর্মীদের সভা, যা পূর্বনির্ধারিত দিন ও ক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়। কোনও কোনও অঙ্গরাজ্যে শুধু প্রাইমারি নির্বাচন হয়, আবার কোনও রাজ্যে শুধু ককাস নির্বাচন হয়। কোনও রাজ্যে প্রাইমারি ও ককাস দুটিই হয়। এবার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি। শেষ হওয়ার কথা ১৪ জুন। প্রাইমারি বা ককাস নির্বাচন সাধারণত সরাসরি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা নির্ধারণের সুযোগ পাওয়ার পরিবর্তে তারা নির্ধারণ করেন যে, প্রতিটি দলের কনভেনশনে দলের কোন প্রার্থী কতজন ডেলিগেট সংগ্রহ করতে পারলেন। জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চূড়ান্ত দলীয় কনভেনশনে ওই ডেলিগেটদের ভোটেই চূড়ান্ত প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/








