অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে কাজের নির্ধারিত সময়ের পর অফিসে থাকা, ছুটির দিনে ইমেইলের উত্তর দেওয়া বা চাকরির বিবরণের বাইরে গিয়ে বাড়তি দায়িত্ব সামলানোকে একসময় নিষ্ঠা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। তবে তরুণ প্রজন্মের পেশাজীবীদের ভাবনায় এখন বড় পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশ এবং কাজের ধরন বদলে যাওয়ার পর তরুণরা এখন কাজের অতিরিক্ত চাপ বা অহেতুক ব্যস্ততা দেখানোকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক ইন্ডিয়া ২০২৬-এর এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মীদের মধ্যে কাজের অতিরিক্ত প্রচেষ্টা বা দায়িত্বের বাইরে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার মানসিকতা কমে যাচ্ছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘এফোর্ট রিসেশন’।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভারতের প্রায় ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান (৩৮০টির মধ্যে ২৪০টি) গত এক বছরে এই ধরনের অতিরিক্ত প্রচেষ্টার পরিমাণ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে, যা গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, ভারতের মোট কর্মক্ষেত্রের প্রায় ২৬ শতাংশই এখন জেন-জি প্রজন্মের দখল, যা ২০২৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই তরুণরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা বা সবসময় কাজের জন্য প্রস্তুত থাকার চেয়ে কাজের নমনীয়তা, ক্রমাগত শেখার সুযোগ, ক্যারিয়ারের অগ্রগতি, মানসিক কল্যাণ এবং অর্থপূর্ণ কাজকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
শিল্প খাত ভেদে এই পরিবর্তনের রূপ ভিন্ন। খুচরা বিক্রি বা রিটেইল খাতে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, যেখানে ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা কমেছে। এরপরেই রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও পেশাদার সেবা খাত (উভয় ক্ষেত্রেই ৭৭ শতাংশ) এবং আবাসন খাত (৭১ শতাংশ)। সবচেয়ে স্থিতিশীল রয়েছে উৎপাদন খাত, যেখানে মাত্র ৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এই হ্রাসের কথা জানিয়েছে।
তবে গবেষণায় একটি বিষয় স্পষ্ট, কর্মীরা যখন অনুভব করেন যে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সত্যিই তাদের পরোয়া করেন, তখন তাদের অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা ৯৯ শতাংশে গিয়ে পৌঁছে; অন্যদিকে এই অনুভূতি না থাকলে তা নেমে আসে মাত্র ২৯ শতাংশে।
সংগঠন বিষয়ক মনোবিজ্ঞানী গুরলিন বারুয়া জানান, কাজের নীতির সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে। যদি অহেতুক দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা বা ব্যস্ততার ভান করাকে কাজের নীতি ধরা হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবেই কমছে। কিন্তু মানুষ এখন ঘণ্টার হিসাবের চেয়ে কাজের মানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এআই এবং রিমোট কাজের সুবিধার ফলে পেশাজীবীরা কাজের পেছনে শারীরিক সময়ের চেয়ে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং অর্থপূর্ণ আউটপুট দেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তরুণ কর্মীরা এখনও অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে রাজি, তবে তার আগে তারা জানতে চান যে সেই বাড়তি প্রচেষ্টার আসল প্রভাব বা মূল্য কতটুকু।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

সম্পর্কের নতুন চাবিকাঠি ‘স্বাধীনতা’
পানিপুরির উদ্ভাবক কি মহাভারতের দ্রৌপদী
ভারতের ‘চকলেট শহর’ কোনটি






