ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শত্রুতা ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল আহমাদ ভাহিদি। এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এসব কথা বলেন ভাহিদি। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভাহিদি বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতির সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতি পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই। দেশটির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক দুই দফা হামলাকে তিনি এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আইআরজিসির প্রধান কমান্ডারের ভাষ্য, বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচলিত সামরিক হামলার পাশাপাশি নতুন ধরনের ‘হাইব্রিড ও সামরিক আগ্রাসন’ দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান বৈরিতার মধ্যেও ইরান প্রতিরক্ষা ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন আরও শক্তিশালী করবে। এ কার্যক্রম আগের তুলনায় বেশি গতি, সতর্কতা ও কৌশলগত বিচক্ষণতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হবে।
ভাহিদির মতে, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে শত্রুর ষড়যন্ত্র মোকাবিলার জন্য সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর কৌশল। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতেও ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে দেশের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরির কৃতিত্ব দেন আইআরজিসি প্রধান। সাম্প্রতিক যুদ্ধসহ বিভিন্ন ‘বাস্তব ও ঐতিহাসিক’ যুদ্ধক্ষেত্রে এই সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভাহিদি আরও বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগের ফলেই ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে উঠেছে। বক্তব্যের শেষে প্রতিরক্ষা শিল্পের নিহত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রশংসা করেন।









