ইসরায়েলের ২০২৬ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে একক দল হিসেবে এগিয়ে রয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি। তবে এক্সিট পোল ও প্রাথমিক নির্বাচনি হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি কোনও পক্ষ। ফলে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে জোট গঠন ও দরকষাকষির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
চ্যানেল ১২-এর এক্সিট পোলের তথ্য অনুযায়ী, লিকুদ পার্টি প্রায় ২৭টি আসন পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে, ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি আসন। এ ছাড়া বিয়াচাদ ও জয়েন্ট লিস্ট ১২টি করে এবং দ্য ডেমোক্র্যাটস ৯টি আসন পেয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাবে উঠে এসেছে।
ব্লকভিত্তিক হিসাবেও কোনও পক্ষের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখা যাচ্ছে না। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুপন্থী ব্লক প্রায় ৫২টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুবিরোধী ব্লকের আসনসংখ্যা প্রায় ৪৯। জয়েন্ট লিস্টের ১২টি এবং রাম পার্টির সাতটি আসন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রদত্ত তথ্যমতে, ভোট পড়েছে প্রায় ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২২ সালের নির্বাচনে ৭০ দশমিক ৬ শতাংশের তুলনায় বেশি। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ভোটারদের এই অংশগ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট কেনেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য সাধারণত অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। ফলে কোনো দল এককভাবে এগিয়ে থাকলেও জোটের সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন কঠিন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনে ছোট দলগুলোর সমর্থন ও রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচনের এই হিসাব শেষ পর্যন্ত কতটা স্থায়ী হয়, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল ও জোট আলোচনার ওপর। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে নেতানিয়াহুকে সরকার গঠনের জন্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে হবে।