সুন্নিপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সদস্যরা ভালো মানের শিক্ষিত হলেও ইসলামি আইন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান খুব কম। সম্প্রতি আইএসর ফাঁস গোপন নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর কমব্যাটিং টেরোরিজম সেন্টার (সিটিসি)।
সিটিসি জানায়, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ৪ হাজার ১৮৮ জন আইএস সদস্যদের সংগঠনটিতে যোগদানে আবেদনপত্রও রয়েছে। আবেদনপত্রে এসব যোদ্ধাদের ব্যক্তিগতসহ শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: রবি শঙ্করকে মাথাবিহীন মানুষের ছবি পাঠিয়েছে আইএস!
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে আইএসের সদস্যদের গড়ে ভালো মানের শিক্ষিত বলে সিটিসি উল্লেখ করেছে। কয়েক জনের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও অর্ধেরও বেশি সদস্য উচ্চ শিক্ষিত। বাকি প্রায় অর্ধেক অন্তত মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।
উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পিএইচডি ডিগ্রিধারীও আছেন। অর্থনীতি, কম্পিউটার সায়েন্স, ইংরেজি, সাইকোলজি ও শিক্ষকতা বিষয়ে কয়েকজন পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও তালিকায় রয়েছেন। এদের বেশির ভাগই পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকে আইএসে যোগ দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ার দেশগুলোর সদস্যদের তুলনায় পশ্চিমা দেশ থেকে বেশি উচ্চ শিক্ষিত।
আরও পড়ুন: ৪ হাজার আইএস যোদ্ধার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস
সিটিসির পর্যালোচনায় জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও আইএস সদস্যদের ইসলামি আইন বা শরিয়া সম্পর্কে জ্ঞান খুব কম।
আবেদনপত্রে যোগদানে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তাদের ইসলামি জ্ঞান কেমন। উত্তরে প্রায় ৭০ শতাংশ লিখেছেন, তাদের ইসলামি জ্ঞান সাধারণ পর্যায়ের। তবে সৌদি আরব, মিসর, তিউনিসিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে যোগ দেওয়া জঙ্গিদের ইসলামি জ্ঞান অনেক বেশি।
আরও খবর: প্রকাশ্যে অফিস থেকে দলিত তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেউ
সিটিসির দাবি, এ পর্যালোচনা থেকে ধারণা পাওয়া যায় কীভাবে আইএস কোরআনকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। দখলকৃত অঞ্চলে নৃশংসতা ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পবিত্র গ্রন্থটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে আইএস।
এর আগে, ২০১৪ সালে শতাধিক ইসলামি চিন্তাবিদ এক খোলা চিঠিতে আইএসের বিরুদ্ধে কোরআনকে ভুলভাবে ব্যাখ্যার অভিযোগ এনেছিলেন। সিটিসির দাবি, এসব তথ্য শতভাগ সঠিক। আইএসকে বুঝতে এবং বিদেশিদের জঙ্গি সংগঠনটিতে যোগদানের বিষয় পর্যালোচনার জন্য এসব নথি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
নথি পর্যালোচনাকারীরা জানান, এর মধ্য দিয়ে জানা যাবে কীভাবে আইএস তরুণদের সংগঠনে যোগদানে উৎসাহিত করছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
/এএ/








