বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার একটি মসজিদে একজন মুস্ললিকে ৩ জন হামলাকারী গলা কেটে হত্যা করেছে। হামলার সময়ে আহত হয়েছেন আরও দুইজন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট মসজিদটিতে শিয়ারা নামাজ পড়েন। শিয়া জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে উস্কানিমূলক সুন্নি প্রচারণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় জঙ্গি হামলার উপদান রয়েছে। হামলাকারীদের সন্ধানে শুরু হয়েছে অভিযান।
দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দর নগরী ডারবান থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত ভেরুলাম শহরে অবস্থিত ওই মসজিদটি। বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজ শেষে অজ্ঞাত পরিচয়ধারীরা হামলা চালিয়েছিল। হামলাকারীরা একজনকে গলা কেটে ও আরও দুই জনকে আহত করার পর মসজিদের ভেতর পেট্রোল বোমা ছোড়ে। তারপর সেখান থেকে গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের মধ্যে নেতৃস্থানীয় একজন মন্তব্য করেছেন, মসজিদটি শিয়া অনুসারীদের বলেই, ওই হামলা হয়েছে। এর আগেও শিয়াদের বিরুদ্ধে হুমকি ধামকি দেওয়ার নজির রয়েছে। মসজিদে হামলার ওই ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় শিয়া জনগোষ্ঠীর একজন আফতাব হায়দার গার্ডিয়ানকে বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার শিয়ারা দীর্ঘদিন ধরেই ঘৃণা ছাড়ানো প্রচারণার শিকার হয়ে আসছে। সরাসরি সুন্নিদের নাম না নিয়ে তিনি বলেছেন, জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের মতো ওই হামলা চালানো হয়েছে।
হামলাকারীদের আক্রমণের শিকার হওয়াদের একজন আলি চিনিয়ান। তার পেটে চাকু ঢুকিয়ে দিয়েছিল হামলাকারীরা। চিনিয়ান বলেছেন, ‘তারা নামাজ পড়ার কথা বলে মসজিদে ঢুকেছিল। নামাজ পড়ার পর তারা হত্যা করতে শুরু করে। তাদের একজন আমাকেও হত্যা করার কথা বলেছিল। কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে মারামারি করে বেঁচে গিয়েছি।’ চিনিয়ান মার্শাল আর্ট পারেন।
হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে অভিযান শুরুর কথা জানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের বিশেষ বাহিনী হকসের মুখপাত্র সিমফিউ হ্লোঙ্গো বলেছেন, ‘পুরো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নেমেছে। সঙ্গে আছে স্থানীয় গোয়েন্দা ও বেসরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।’
গার্ডিয়ান লিখেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় মসজিদে হামলার মতো ঘটনা বিরল। ৫ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে মাত্র ১.৫ শতাংশ মানুষ মুসলমান। দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তাবাহিনী সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।







