নাইজেরিয়ায় এক ইমামের চেষ্টায় প্রাণ বাঁচল খ্রিস্টানদের

বিদেশ ডেস্ক
০১ জুলাই ২০১৮, ১৯:৫০আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৮, ১৯:৫৮

নাইজেরিয়ার এক গ্রামে একজন ইমামের চেষ্টায় প্রাণ বাঁচল পাশের গ্রামের খ্রিস্টানদের। মুসলমান লুটেরাদের ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে গ্রাম ছেড়ে পালাতে থাকা খ্রিস্টানদের নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন ওই ইমাম। পালিয়ে আসা খ্রিস্টান গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালাতে হামলাকারীদের দলটি পাশের ওই মুসলমান অধ্যুষিত গ্রামে গিয়েও উপস্থিত হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম বিবিসি লিখেছে, হামলাকারীরা মূলত যাযাবর গোষ্ঠীর সদস্য এবং ইসলাম ধর্মের অনুসারী। অন্যদিকে হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিরা পেশায় কৃষক, তার মূলত খ্রিস্টান। নিরাপত্তার স্বার্থে ইমামের পরিচয় প্রকাশ করেনি বিবিসি

আক্রান্ত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ৩টার দিকে তাদের গ্রামে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা সংখ্যায় প্রায় ৩০০ জন। তাদের সবার কাছে ছিল অস্ত্র। এলোপাতাড়ি গুলির পাশাপাশি ঘরে অগ্নিসংযোগও করে হামলাকারীরা। গুলির মুখে গ্রামবাসীরা পালাতে বাধ্য হন। এমন কি নিরাপত্তা চৌকি পার হয়ে যাওয়ার পরও গুলি বন্ধ হয়নি। হামলার প্রাবল্যে নিরাপত্তারক্ষীরাও চৌকি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।  প্রায় ঘণ্টা খানেকের পথ পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছান ওই ইমামের গ্রামে। আশ্রয়প্রার্থীদের দেখে ইমাম সাহেব ২৬২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে তার নিজের বাড়ি ও মসজিদে লুকিয়ে রাখেন। তিনি বিবিসি পিজিন ভাষার কার্যক্রমের কাছে জানিয়েছেন, ‘আমি প্রথমে নারীদের আমার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখি। তার পর পুরুষদের নিয়ে যাই মসজিদে।’

হামলাকারী ফুলানি সম্প্রদায়ের মুসলমানরা খ্রিস্টান কৃষকদের খোঁজে ইমাম সাহবের গ্রামে উপস্থিত হয় এবং তাকে ওই গ্রামবাসীদের মসজিদ থেকে বের করে দিতে বলে। নাইজেরিয়ার ওই ইমাম মসজিদে লুকিয়ে রাখা খ্রিস্টান কৃষকদের বের করে দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু তাতেও আশ্রয়গ্রহণকারীদের বের করে দিতে অস্বীকৃতি জানান ইমাম। তিনি বরং এক পর্যায়ে মসজিদের প্রবেশ মুখে শুয়ে পড়েন এবং হামলাকারীদের চলে যেতে অনুনয় বিনয় করেন। শেষ পর্যন্ত হামলাকারীরা ওই গ্রাম থেকে চলে যায়। যাওয়ার আগে তারা নিকটবর্তী দুইটি গির্জায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে যায়।

বিবিসি লিখেছে, ওই গ্রামগুলো যে এলাকায় অবস্থিত সেখানে ধর্মীয় উত্তেজনা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশুপালনকারীরা ফুলানি সম্প্রদায়ের মানুষ যাদের বেশিরভাগই মুসলমান। অন্যদিকে কৃষকরা ভেরোম সম্প্রদায়ের সদস্য যাদের বেশিরভাগই খ্রিস্টান।ফুলানিরা প্রায়ই কৃষকদের ওপর হামলা চালায়। নাইজেরিয়ায় শুধু ২০১৮ সালেই শত শত মানুষ মারা গেছে পশু পালনের তৃণভূমির দখল নিশ্চিত করতে ও পশু ছিনিয়ে নিতে গিয়ে।  

/এএমএ/
সম্পর্কিত
হাজার বছরের ‘পবিত্র’ গাছ মৃত্যুযাত্রায়, মর্মাহত পুরো গ্রাম
তলিয়ে যেতে পারে খুলনা ও কলকাতাসহ বিশ্বের ১৫ শহর
বিশ্বের সবচেয়ে ‘অপছন্দনীয়’ দেশ কোনগুলো
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা (৫ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (৫ জুন, ২০২৬)
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি