ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) রাজধানী কিনশাসায় একটি উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট কারাগার থেকে পালানোর চেষ্টার সময় অন্তত ১২৯ জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানি লুকো জানান, সোমবার ভোরে সতর্কতামূলক গুলির পর ২৪ জন বন্দি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বাকিরা ম্যাকালা কারাগারে ভিড়ের চাপে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার ভোরে কারাগারের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষরা গুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ বাধা দেয় এবং এলাকায় প্রবেশ বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা দাদি সোসো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, রাত ১টা বা ২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত গুলির শব্দ শোনা গেছে। সেখানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং কিছু মানুষ পালিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী মৃতদেহগুলো সরিয়ে নিচ্ছে।
প্রথমে সরকার দাবি করেছিল, এই ঘটনায় মাত্র দুজন মারা গেছেন। তবে পরে নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করা হয়।
সোমবার সকালে কারাগারের ভেতর থেকে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না করা কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, সেখানে মাটিতে পড়ে থাকা নিথর দেহ এবং ভিড়ের মধ্যে মানুষদের সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে দেখা গেছে।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানি লুকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় এই ঘটনার ব্যাপকতা এবং মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এটি নিরাপত্তা বাহিনী, জাতীয় পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর প্রশংসার সময়। তারা দ্রুত সাড়া দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, পালানো রোধ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এটি দুঃখজনক যে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রাণহানি, হামলা ও বিশেষ করে সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে, প্রশাসনিক এবং নিবন্ধন অফিসে আগুন লেগেছে। আমরা এই জরুরি পরিস্থিতিগুলো মোকাবিলায় কাজ করছি।
সাত বছর আগে এই ম্যাকালা কারাগার থেকে প্রায় চার হাজার বন্দি পালিয়ে যায়। এটি কঙ্গোর সবচেয়ে বড় কারাগার। এটির ধারণক্ষমতা দেড় হাজার হলেও সেখানে ১৪ হাজারের বেশি বন্দিকে রাখা হয়েছিল বলে এএফপি জানিয়েছে। ২০২০ সালে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কারাগারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, সেখানে খাদ্য সংকট এবং স্বাস্থ্যবিধির অভাবে বন্দিরা মৃত্যুর মুখে পড়ছে। তখন অনুমান করা হয়েছিল যে মাত্র ছয় শতাংশ বন্দি তাদের সাজা ভোগ করছে, বাকি সবাই কঙ্গোর জটিল বিচার ব্যবস্থার মধ্যে আটকা পড়ে আছে।









