তাঞ্জানিয়ায় স্বাধীনতা দিবসে বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশ-সেনা মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১:০১আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১:০১

তাঞ্জানিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী দার এস সালামে মঙ্গলবার ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় সহিংস বিক্ষোভ দমনের প্রতিবাদে কর্মীদের ডাকা আন্দোলন ঠেকাতে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশ ও সেনারা টহলে নেমেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সরকার জানায়, দেশের স্বাধীনতা দিবসে যেকোনও বিক্ষোভকে ‘অভ্যুত্থানের চেষ্টা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটি স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার মুখোমুখি হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সহিংসতায় শত শত মানুষ নিহত হন।

দার এস সালামের প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশ ও সেনারা পরিচয়পত্র তল্লাশি করে টহল দিচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি শান্ত মনে হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট ও একজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, কিছু এলাকায় ছোটখাটো বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। যদিও তা সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত করা যায়নি।

এ বিষয়ে পুলিশের মুখপাত্র কোনও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হাসান প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নতুন মেয়াদে জিতেছেন। বিরোধী দলের প্রধান প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার পরই এই ফল আসে। গত মাসে তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতার তদন্তের ঘোষণা দেন, যদিও নিরাপত্তাবাহিনী কোনও অনিয়ম করেনি বলে বারবার দাবি করে আসছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা গত সপ্তাহে বলেন, নির্বাচনি সহিংসতায় অন্তত ৭০০ মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। সরকার স্বীকার করেছে যে মানুষ নিহত হয়েছে, তবে নিজেদের কোনও সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে জানায়, বেসামরিক নাগরিকের ওপর সহিংসতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিনিয়োগে বাধার উদ্বেগের কারণে তারা তাঞ্জানিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করছে।

নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে বিরোধী নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছিলেন, সরকার সমালোচকদের নিখোঁজ করছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট হাসান জানিয়েছিলেন, তিনি এসব অপহরণের অভিযোগ তদন্তে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এখনও তদন্তের কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

 

/এএ/
সম্পর্কিত
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে