ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলো পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ মে ২০২৪, ১২:৫৩আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ১৩:০৩

যুক্তরাষ্ট্রের ইরভিন শহরে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একটি লেকচার হল থেকে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। হলটি টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকে রেখেছিলেন তারা। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি ক্যাম্পও ভেঙ্গে দিয়েছে পুলিশ। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পটিতে অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা লেকচার হলটি দখল করেছিল, যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই ঘটনাকে একটি ‘হিংসামূলক প্রতিবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ১০টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জড়ো হন এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, লেকচার হলটি দখল করার ঘণ্টা চারেক পর হল ও ক্যাম্প থেকে বিক্ষোভকারীদের বের করে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে টেলিফোনে ইউসি আরভিনের মুখপাত্র টম ভাসিচ বলেছেন, ‘লেকচার হলটি পুনরুদ্ধার করেছে পুলিশ। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা ভবনটি খালি করেছে।’

মুখোমুখি অবস্থানে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশ। ছবি: রয়টার্স

এসময় ‘অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার’ করার কথা জানিয়েছেন ভাসিচ।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের সব ক্লাস অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের ক্যাম্পাসে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৪০ মাইল (৬৫ কিলোমিটার) দক্ষিণে ইরভিন শহরে এই বিক্ষোভ হচ্ছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং বেসামরিকদের জীবন রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সর্বশেষ ইরভিনে বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনপন্থিরা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সম্পর্ক থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইউসি ইরভিনের বিক্ষোভকারীরা ২৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার হলের সংলগ্ন একটি ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন।

ভাসিচ বলেছিলেন, বুধবার ২০০ থেকে ৩০০ বিক্ষোভকারী লেকচার হলটি দখল করেছিল। তখন হলটি অবশ্য খালিই ছিল। সেখানে কোনও ক্লাস সেশন চলছিল না।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টার পত্রিকা জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ একটি ব্যারিকেড তৈরি করে। তখন লাউড স্পিকারে এক অফিসার জনতাকে সতর্ক করে হলটি খালি করার নির্দেশ দেন। বেআইনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমাবেশ করায় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।

রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, এসময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিয়ে, ড্রাম বাজিয়ে এবং ব্যানার উত্তোলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাদের কাছাকাছি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ।

ভাসিচ আরও জানিয়েছেন, চারটি সংলগ্ন গবেষণা ভবনের ভেতরে শত শত মানুষকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরে অবশ্য তাদেরকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় পুলিশের সামনে ফুল হাতে এক বিক্ষোভকারী। ছবি: রয়টার্স

সন্ধ্যার দিকে লেকচার হলে প্রবেশ করেছিল পুলিশ। এর পর ক্যাম্পে অবস্থানকারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে তাদের। এসময় তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে হেলমেটধারী পুলিশ। এসময় অনেককে গ্রেফতারও করা হয়।

ক্যাম্প শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন চ্যান্সেলর হাওয়ার্ড গিলম্যান। তিনি বলছিলেন, আলোচনা হলেও একটি কোনও সমাধানে আসা সম্ভব হয়নি।

গিলম্যান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবৈধ ক্যাম্প স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং ‘ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া’ স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা ইসরায়েল থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।

সোমবার গিলম্যান বলেছেন, ‘বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগ দাবিই এমন যা মানতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুষদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার অধিকার, অনুষদ ও শিক্ষার্থীদের বাক স্বাধীনতার অধিকার এবং আমাদের অনেক ইহুদি শিক্ষার্থীর নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করতে হবে।’

/এএকে/
সম্পর্কিত
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
সর্বশেষ খবর
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি
চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের