কাতারি রাজপরিবারের দেওয়া বিমান গ্রহণ না করা হবে বোকামি: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ মে ২০২৫, ১৯:১৮আপডেট : ১৩ মে ২০২৫, ১৯:৩৬

কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে বিলাসবহুল একটি বিমান উপহার হিসেবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প এই উপহার প্রত্যাখ্যান না করার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি না নেওয়া হবে বোকামির শামিল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কাতার থেকে এটা একটা দারুণ প্রস্তাব। আমি কৃতজ্ঞ। আমি এমন কোনও ব্যক্তি না যে এ ধরনের একটি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবে। আপনি বলতেই পারেন, ‘না, আমরা একটি অত্যন্ত দামি বিমান বিনামূল্যে চাই না’—সেটা হবে মূর্খতা।

প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল এয়ারক্রাফট ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে সাজানো হবে বলে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, এটি ভবিষ্যতে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত হবে এবং তিনি অবসরের পর এটি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করবেন না।

কিন্তু এই ঘোষণা সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনা ডেকে আনে। বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারা ও নীতিশুদ্ধ প্রশাসনের পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেন, এটি প্রেসিডেন্টের নীতিগত স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে এবং বিদেশি প্রভাব বিস্তারের পথ খুলে দিতে পারে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ব্রায়ান শাটজ, ক্রিস মারফি, কোরি বুকার ও ক্রিস কুনস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের উপহার গ্রহণে রাষ্ট্রপতির নীতিগত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাড়বে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, বিমানটি প্রতিরক্ষা বিভাগকে উপহার দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে কাতার এই বিনিময়ে কী চাইতে পারে তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও উদ্বেগ নেই বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, এটি একটি ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত। বোয়িং কোম্পানির বিলম্বে আমি হতাশ। আমি প্রথম মেয়াদে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু সেটা এখনও আসেনি।

মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে সৌদি আরব পৌঁছেছেন ট্রাম্প। সফরে তার কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যাওয়ার কথা রয়েছে। এসব দেশকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সহায়তার ‘কৃতজ্ঞতাবোধ’ থেকেই এই উপহার এসেছে বলে মনে করেন তিনি।

 

/এএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
সর্বশেষ খবর
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
নতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
শিশু রামিসা হত্যা মামলানতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী