পানামার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির গুরুত্বপূর্ণ দুইটি খাল সংযুক্ত বন্দর পরিচালনায় চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করেছে। এতে নতুন করে এই অঞ্চলে দরপত্র আহ্বান সংক্রান্ত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
পানামা পোর্টস কোম্পানি (পিপিসি) জানিয়েছে, এই রায়ের কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং এটি চুক্তিগত স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ সিদ্ধান্তের ফলে কর্মসংস্থান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বন্দর কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল হাজারো পরিবারের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়বে। তারা আরও বলেছে, পানামার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে এসেছে এবং সব আইনি পথ অনুসরণ করবে।
আদালত জানিয়েছে, কনসেশন চুক্তির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত আইনগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে বালবোয়া ও ক্রিস্টোবাল টার্মিনাল উন্নয়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য পিপিসির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে। হংকংভিত্তিক সিকে হাচিসনের সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯০-এর দশক থেকে এই বন্দরগুলোর দায়িত্বে ছিল। ২০২১ সালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তির মেয়াদ আরও ২৫ বছর বাড়ানো হয়।
এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রায়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত চীনা কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই রায়ের ফলে পানামাকে বন্দর চুক্তি কাঠামো নতুন করে সাজাতে হতে পারে এবং নতুন দরপত্র আহ্বানের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে হিসাবগত অনিয়মের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পর থেকে দেশটির প্রায় ৩০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে এবং মূল ২৫ বছরের মেয়াদে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক ১২০ কোটি ডলার।
২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পানামার ওপর চাপ বাড়ায়, যাতে চীনা প্রভাব কমানো যায়। যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত এই খাল দিয়ে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এর আগে ট্রাম্পের হুমকির পর সিকে হাচিসন প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ব্ল্যাকরকের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে বন্দরগুলো বিক্রির প্রস্তাব দেয়। তবে চীনের আপত্তিতে সেই চুক্তি স্থবির হয়ে পড়ে।








