ডার্ক ওয়েবে নির্যাতনের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এক কিশোরিকে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখতে ছবিগুলো থেকে সমস্ত শনাক্তকারী চিহ্ন মুছে ফেলা হলেও একটি ইটের দেয়ালকে সূত্র ধরেই সেই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি–এর বিশেষ তদন্তকারী গ্রেগ স্কোয়ারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ইউনিট ডার্ক ওয়েব পর্যবেক্ষণ করছিল। তারা নিয়মিত ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর (ছদ্মনাম ‘লুসি’) নির্যাতনের ছবি শনাক্ত করে। ছবিগুলো এমনভাবে সম্পাদনা করা ছিল যাতে স্থান বা পরিচয় সম্পর্কিত কোনো স্পষ্ট তথ্য না থাকে।
তদন্তকারীরা প্রথমে ছবিতে থাকা বৈদ্যুতিক সকেট দেখে ঘটনাস্থল উত্তর আমেরিকার কোথাও বলে ধারণা করেন। পরে ঘরের আসবাব, বিছানার চাদর ও খেলনাসহ বিভিন্ন উপাদান বিশ্লেষণ করা হয়। একটি সোফা শনাক্ত করে জানা যায়, সেটি নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে বিক্রি হতো, ফলে সম্ভাব্য ক্রেতার তালিকা প্রায় ৪০ হাজারে সীমিত হয়। এরপর শোবার ঘরের খোলা ইটের দেয়াল তদন্তে নতুন দিক দেয়। ইট বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় জানা যায়, এটি একটি বিশেষ ধরনের ইট, যা ১৯৬০-এর দশকের শেষ থেকে ১৯৮০-এর মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উৎপাদিত হয়েছিল।
ইটের ওজন বেশি হওয়ায় তা দূরে পরিবহন করা হতো না, এমন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য এলাকার পরিসর আরও সংকুচিত করেন। সোফা ক্রেতাদের তালিকা থেকে কারখানার ১০০ মাইলের মধ্যে থাকা ঠিকানাগুলো আলাদা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই করে এক কিশোরীর ছবি তদন্তকারীদের সন্দেহ জোরদার করে।
রাষ্ট্রীয় নথি পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই বাড়িতে কিশোরীর মায়ের এক সঙ্গী বসবাস করতেন, যিনি আগে থেকেই দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী ছিলেন। অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তাকে ৭০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেয়। এর মাধ্যমে ছয় বছর ধরে চলা নির্যাতনের অবসান ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও মানবিক বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এ ধরনের কাজের মানসিক চাপও গভীর। গ্রেগ স্কোয়ার জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ভয়াবহ কনটেন্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তার ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়েছে এবং পরে তিনি চিকিৎসা সহায়তাও নিয়েছেন।
গত গ্রীষ্মে বহু বছর পর প্রাপ্তবয়স্ক লুসির সঙ্গে স্কোয়ারের সাক্ষাৎ হয়। লুসি জানান, উদ্ধার হওয়ার আগে তিনি নির্যাতন থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করছিলেন। এদিকে ফেসবুক জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় তারা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে।








