জ্বালানি সংকটে কিউবায় ভরসা এখন ‘সিক্লোবাস’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৫আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৫

কিউবার রাজধানী হাভানার প্রচণ্ড গরমে এক বিকেলে দেখা গেলো সাইকেল, স্কুটার আর ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। চালকেরা সবাই অপেক্ষা করছেন ‘সিক্লোবাসের’ জন্য। এই বিশেষ বাসটি যাত্রীদের তাদের বাহনসহ হাভানা বে টানেলের ভেতর দিয়ে নিয়ে যায়। দ্বীপের পূর্ব অংশের সঙ্গে পুরোনো হাভানাকে যুক্ত করেছে এই আন্ডারওয়াটার টানেল।

ডিজেলচালিত এই বাসটি একসঙ্গে প্রায় ৬০ জন যাত্রী ও তাদের বাহন পরিবহন করতে পারে। দিনে দুই হাজারের বেশি মানুষ এই বাসে যাতায়াত করেন। বাসের সামনের অংশে বসার জায়গা থাকলেও পেছনের অর্ধেকের বেশি জায়গা মালামাল বা বাহন রাখার জন্য খোলা রাখা হয়েছে। যাত্রীরা একটি বিশেষ র‍্যাম্প দিয়ে বাসে ওঠেন এবং পুরোটা সময় নিজ নিজ বাহন ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। উল্লেখ্য, এই টানেলের ভেতর দিয়ে সরাসরি সাইকেল বা মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ। সিক্লোবাস সেবাটি নতুন না হলেও কিউবার সাম্প্রতিক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে এটি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

জ্বালানি সংকটে কিউবায় ভরসা এখন ‘সিক্লোবাস’

গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত জ্বালানি অবরোধের ফলে কিউবায় পেট্রোল রেশনিং করতে হচ্ছে। প্রতিটি যানবাহনের জন্য মাত্র ২০ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা পেতে দীর্ঘ সময় এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ফলে দেশটির গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। হাভানার রাস্তায় এখন গাড়ির দেখা মেলা ভার; বদলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার সাইকেল আর ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল।

দ্বীপরাষ্ট্রটির সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত গণপরিবহন রুট এটি। মাত্র ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ১৫ মিনিটের মতো। টানেলের অন্ধকার পথ পার হয়ে বাসটি যখন পূর্ব হাভানায় পৌঁছায়, সেখানে অপেক্ষা করেন কয়েক হাজার বাসিন্দা। বিকল্প স্থলপথে যেতে চাইলে বিশাল উপসাগর ঘুরে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, যার রাস্তাগুলোও খুব একটা ভালো নয়।

জ্বালানি সংকটে কিউবায় ভরসা এখন ‘সিক্লোবাস’

এই বাসে চড়ার খরচও অতি সামান্য। সাইকেল বা মোটরসাইকেলভেদে ভাড়া ২ থেকে ৫ কিউবান পেসো। অন্যদিকে, একই পথ ট্যাক্সিতে পার হতে খরচ হয় প্রায় ১০০০ পেসো (প্রায় ২ ডলার)। যেখানে একজন কিউবান শ্রমিকের মাসিক বেতন গড়ে ৭০০০ পেসো (প্রায় ১৪ ডলার)।

হাভানার রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার মালিকানাধীন এই সিক্লোবাস নব্বইয়ের দশকের ‘স্পেশাল পিরিয়ড’-এ চালু হয়েছিল। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিউবা যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, তখন ফিদেল কাস্ত্রো জনগণের মাঝে চীন থেকে আসা সাইকেল বিতরণ করেছিলেন। সময়ের ব্যবধানে মানুষ বাস বা ট্যাক্সিমুখী হওয়ায় এই সেবার জনপ্রিয়তা কমেছিল। কিন্তু বর্তমান জ্বালানি সংকটে কিউবানরা আবার সাইকেল আর স্কুটারে ফিরে আসায় সিক্লোবাসের কদর এখন তুঙ্গে।

সূত্র: এপি

/আরএস/এএ/
সম্পর্কিত
‘এরা আমাকে মেরে ফেলবে’; মৃত্যুর আগে তরুণীর আকুতি, সন্তানসহ মৃত্যু
৩৪ বছরেই চলে গেলেন বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজা
হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর
সর্বশেষ খবর
মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত পুলিশি কাঠামোর মধ্যে রাখলে ফল পাওয়া কঠিন: নূর খান
মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত পুলিশি কাঠামোর মধ্যে রাখলে ফল পাওয়া কঠিন: নূর খান
‘এরা আমাকে মেরে ফেলবে’; মৃত্যুর আগে তরুণীর আকুতি, সন্তানসহ মৃত্যু
‘এরা আমাকে মেরে ফেলবে’; মৃত্যুর আগে তরুণীর আকুতি, সন্তানসহ মৃত্যু
স্পেনে ভ্রমণে মেনে চলুন ৫ অলিখিত নিয়ম
স্পেনে ভ্রমণে মেনে চলুন ৫ অলিখিত নিয়ম
বল করতে ১০০ কিলোমিটার দৌড়! বিশ্ব রেকর্ডের পথে যে ক্রিকেটার
বল করতে ১০০ কিলোমিটার দৌড়! বিশ্ব রেকর্ডের পথে যে ক্রিকেটার
সর্বাধিক পঠিত
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী
সারা দেশে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর 
সারা দেশে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর 
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন আইরিন খান
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন আইরিন খান
খেলনা বন্দুক হাতে ভিডিও বানানো সেই দুই তরুণ আটক
খেলনা বন্দুক হাতে ভিডিও বানানো সেই দুই তরুণ আটক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট