আমেরিকায় কেবল তরুণ প্রজন্মই নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক মেলামেশার চেনা জায়গাগুলোও একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গির্জা বা প্রবীণ কল্যাণ কেন্দ্রের (সিনিয়র সেন্টার) মতো প্রয়োজনীয় জায়গাগুলো হারিয়ে যাওয়ার কারণে দেশটিতে একাকীত্বের ‘মহামারি’ দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে।
গবেষকেরা বলছেন, স্পোর্টস ক্লাবের উচ্চ প্রবেশমূল্য বা চেনা আড্ডাস্থল বন্ধ হওয়া মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের অধ্যাপক জেসিকা ফিনলে ও অন্য গবেষকদের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মার্কিন সমাজে ঘর ও কর্মক্ষেত্রের বাইরে মানুষের মেলামেশার প্রধান জায়গাগুলোর প্রাপ্যতা দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। এই সংকটের প্রভাব সব এলাকায় সমান নয়। যেমন, অশ্বেতাঙ্গ প্রধান এলাকাগুলোতে লাইব্রেরির সংখ্যা কম, অন্যদিকে গ্রামীণ ও কম শিক্ষিত মানুষের অঞ্চলে সামাজিক বা নাগরিক সংগঠনের অভাব রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে এই অবক্ষয় গ্রামীণ ও কৃষ্ণাঙ্গ প্রধান এলাকাগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
দীর্ঘ ২০ বছর যাজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রায়ান বার্জ জানান, ইলিনয়ের মাউন্ট ভার্ননে তার চার্চটি যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন তিনি এর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারণ ওই চার্চের শেষদিকের সিংহভাগ সদস্যই ছিলেন বিধবা নারী, যাদের জন্য চার্চটিই ছিল একমাত্র সোশ্যাল নেটওয়ার্ক।
অধ্যাপক ফিনলে মনে করেন, এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা প্রবীণদের জন্য ‘বিধ্বংসী’ হতে পারে। সুপারমার্কেটে কেনাকাটার লাইনে দাঁড়িয়ে একটুখানি গল্প বা এক চিলতে হাসির মতো অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগই হয়তো সারাদিনে তাদের একমাত্র সামাজিক মিথস্ক্রিয়া।
তবে এই একাকীত্ব দূর করতে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। উইসকনসিনের শোরউডের বাসিন্দা পেজ হ্যামন্ড তার বাড়ির উঠোনের সনা-বাথরুমে একা বসে থাকার সময় একাকীত্ব বোধ করেন। তিনি ফেসবুকে অন্য নারীদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানালে ১০০ জনেরও বেশি নারী সাড়া দেন। এর ওপর ভিত্তি করেই তিনি গড়ে তোলেন ‘শোরউড উইমেনস সোশ্যাল’, যেখানে ২০ থেকে ৭০ বছর বয়সী নারীরা নিয়মিত সমবেত হচ্ছেন।
সূত্র: অ্যাক্সিওস









