যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সার, জ্বালানি ও কৃষি যন্ত্রপাতির চরম মূল্যবৃদ্ধিতে তীব্র সংকটে পড়েছেন দেশটির কৃষকেরা। ক্রমাগত উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকায় এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা চরম লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের কাছ থেকে জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আইওয়ার কৃষক ওয়েন্ডি জনসন জানান, তার খামারের মুনাফা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। ১৯৮০-র দশকে গ্রামীণ অর্থনীতি যেভাবে ধসে পড়েছিল, আবার সেই ধরনের সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার ভয় হচ্ছে, আমরা আরেকটি কৃষি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছি। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের গ্রামীণ সম্প্রদায়ের ওপর এটি কী প্রভাব ফেলেছিল, তা আমরা সবাই জানি।
সংকট মোকাবিলায় কংগ্রেসের রিপাবলিকান নেতারা ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি জরুরি সহায়তা প্যাকেজ পাসের চেষ্টা করছেন। তবে এই সহায়তার সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কোটি কোটি ডলারের বরাদ্দ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই দ্বিধাবিভক্ত নীতি নিয়ে কৃষি খাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সহায়তা পাওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশন ছাড়া অনেক সংগঠনই সহায়তাকে যুদ্ধের তহবিলের সঙ্গে যুক্ত করার বিরোধিতা করেছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন এবং ডেমোক্র্যাটিক লিডার হাকিম জেফ্রিকে দেওয়া এক চিঠিতে ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়ন জানায়, আমরা কৃষকদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার পক্ষপাতি। তবে একটি ব্যয়বহুল সামরিক সংঘাতকে জিইয়ে রাখার এই অর্থায়ন নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, যা বিশ্ববাজারকে আরও অস্থির করে তুলছে এবং কৃষির উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
একই সুর ব্যক্ত করে আইওয়া ফার্মার্স ইউনিয়নের সভাপতি অ্যারন লেহম্যান বলেন, আইনপ্রণেতারা কৃষকদের সহায়তার পথ খুঁজছেন দেখে আমি খুশি। তবে এই পদ্ধতিটি সঠিক নয়।
টেক্সাসের কৃষক রাসেল বোয়েনিং জানান, কিছু ক্ষেত্রে তার আয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। জরুরি সহায়তার প্রয়োজন স্বীকার করে তিনি বলেন, কৃষকরা বারবার অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তার জন্য সরকারের কাছে ধর্না দিতে চান না, দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চান।
অন্যদিকে, মিশিগান ফার্ম ব্যুরোর সভাপতি বেন লাক্রস বলেন, কৃষকরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্রমবর্ধমান খরচ এবং পণ্যের কম দামের সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি একটি নতুন বিল পাসের ওপর জোর দেন যা সার ও অন্যান্য উপকরণের খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
বর্তমানে কার্যকর থাকা আট বছরের পুরোনো ফার্ম বিল-এর মেয়াদ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। তবে নতুন নীতি ও খাদ্য সহায়তা সংক্রান্ত অর্থায়ন নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের বিরোধের কারণে কংগ্রেস এখনও কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সাহায্য বিল পাস করা রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দলীয় অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের কারণে নির্বাচনের আগে কৃষকদের জন্য এই সহায়তা প্যাকেজ পাস করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

মিসর ও চীনের যৌথ বিমান মহড়া শুরু
২ লাখ ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের







