স্কুল শিক্ষার্থীদের মায়েদের জন্য চালু করা ড্রেস কোড নিষিদ্ধ করেছে শ্রীলংকা। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের মায়েদের জন্য এ বিধি চালু করার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় ওঠেছিল। এরপর দেশটির সরকার জানিয়েছে, কোনও স্কুলের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের জন্য এ ধরনের নির্দেশনা জারি করতে পারবে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মায়েদের জন্য প্রথম এই ড্রেসকোড চালু করে দেশটির একটি বিখ্যাত স্কুল। এখানে মূলত উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। স্কুলটির ফটকের সঙ্গে একটি পোস্টার টানিয়ে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। পোস্টারে ছবিসহ বর্ণণা দিয়ে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের মায়েরা কেমন পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবেন।
স্কুলটির জারি করা নির্দেশনা অনুসারে, মায়েরা শাড়ি কিংবা ঢিলেঢালা পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবেন। তবে স্কার্ট বা হাতা-কাটা জামা পরে স্কুলে আসতে পারবেন না। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, মায়েরা খোলামেলা পোশাক পরে স্কুলে আসলে স্কুলের ছেলেদের অনুভূতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
রাজধানী কলম্বোর সেন্ট জোসেফ কলেজে গত সপ্তাহে ড্রেসকোডের পোস্টারটি লাগানো হয়েছিলো। সেখানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরিহিত ১৬ জন নারীর ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এর কোনটার পাশে টিক চিহ্ন দেওয়া আবার কোনটার পাশে ক্রস বা কাটা চিহ্ন। আরও একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি স্কুল সেন্ট পিটার্স কলেজেও গেটের সামনে প্রায় একই ধরনের ড্রেসকোড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। স্কুলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা ছেলেদের স্কুল। ফলে মহিলাদের বোঝা দরকার কী তাদের পরা উচিত আর কী পরা উচিত নয়।?"
ড্রেসকোডটি চালু করার পর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অনেক অভিযোগ ও প্রতিবাদ শুরু হয়। ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর শ্রীলংকার বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে একই ধরনের নিয়ম চালু করা হয়। নিয়ম মেনে পোশাক না পরে আসার কারণে অনেক মাকেই স্কুলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।
শ্রীলংকার শিক্ষামন্ত্রী আকিলা কারিয়াওয়াসাম বলেন, অনেক অভিভাবক বিশেষ করে মায়েরা এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তার কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘অভিভাবকরা কোন ধরনের পোশাক পরে স্কুলে আসবেন স্কুল সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এই ড্রেসকোডের জন্যে মায়েরাই সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। কারণ বেশিরভাগ কর্মজীবী নারী সবসময় শাড়ি পরেন না। তাদের কারও কারও ইউনিফর্ম আছে যা পরে তাদেরকে কাজে যেতে হয়। ফলে বাচ্চাদের শুধু স্কুলে দিতে আসতে গেলেই তারা শাড়ি পরতে বাধ্য হচ্ছেন। পরে আবার পোশাক বদলে তাদেরকে কাজে যেতে হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে তিনি সব স্কুলের প্রধান শিক্ষককে একটি সার্কুলার পাঠিয়েছেন যেখানে বলা হয়েছে বাবা-মায়েরা কী পরে স্কুলে আসবেন সে বিষয়ে স্কুলের বলার কিছু নেই। তিনি বলেন, ‘সব মা-ই জানেন কী কাপড় পরে স্কুলে যেতে হয় বা হয় না।’ সূত্র: বিবিসি বাংলা।
/এএ/








