আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সোমবার সকালে একটি বোমা হামলার পর ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে সাংবাদিক ছদ্মবেশে ঢুকে পড়ে এক আত্মঘাতী হামলাকারী। জোড়া হামলায় মোট নিহত ২৯ জনের মধ্যে সাংবাদিক রয়েছেন ৯ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফরাসি বার্তা এএফপি’র কাবুল ব্যুরোর প্রধান আলোকচিত্রী। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএস।
আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াহিদ মাজরোহ দেশটির সবচেয়ে বেসরকারি টিভি চ্যানেল টোলো নিউজকে জানিয়েছেন, আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় আহত ২৭ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র হাসমত স্টানিকজাই বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, প্রথম বিস্ফোরণের পর জড়ো সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়। হামলাকারী সাংবাদিকের ছদ্মবেশে সেখানে জড়ো হয়ে ভিড়ের মধ্যে নিজেকে বিস্ফারণে উড়িয়ে দেন।
এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন দুটি বিস্ফোরণের ঘটনাই ছিল আত্মঘাতী। আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এক মোটরসাইকেল আরোহী প্রথম বোমা হামলা চালালে অন্তত চারজন নিহত ও অপর পাঁচজন আহত হয়।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র সাংবাদিক হতাহতের কথা নিশ্চিত করলেও কতোজন তা জানাতে পারেননি। আফগান সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি জানিয়েছে, ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে নয় সাংবাদিক রয়েছেন।
প্যারিসভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের হিসাবে গত বছর ছিল আফগানিস্তানের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। অন্তত ১৫ সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মী নিহত হন। সংগঠনটি বলছে, দেশটির কিছু এলাকায় তালেবান ও আইএস যোদ্ধারা তথ্য সাংবাদিকদের কাজের বাধা সৃষ্টি করেছে।
পশ্চিমা ও আফগান কর্মকর্তাদের আশঙ্কা চলতি বছর আফগানিস্তানে হামলার ঘটনা বাড়তে পারে। গত মাসে টোলো নিউজকে আফগানিস্তানে ন্যাটো কমান্ডার জন নিকোলসন বলেন, তালেবান এই বছরে আরও বেশি আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে এই বছরে দুই ধাপ এগিয়েছে আফগানিস্তান। চলতি বছরে ১৮০ দেশের তালিকায় ১১৮তম স্থান পেয়েছে তারা। গত বছর তাদের অবস্থান ছিল ১২০-এ। রিপোর্টে বলা হয়েছে বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও আফগান সাংবাদিকেরা অধিকার, বহুমাত্রিকতা ও স্বাধীনতা ভোগ করে চলেছেন।








