থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া কিশোর ফুটবল দল ও তাদের কোচকে উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান সমাপ্ত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডুবুরিরা। এজন্য ডুবুরিরা আজ গুহায় আটকে পড়া অবশিষ্ট পাঁচ জন উদ্ধারে অভিযানে নামবেন। এর আগে রবি ও সোমবার চারজন করে মোট আট জনকে গুহা থেকে উদ্ধার করা হয়। আজ যদি অবশিষ্ট পাঁচ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় তাহলে এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, বাকি ৪ কিশোর ও তাদের কোচের স্বাস্থ্য ভালো জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা পানিভর্তি জটিল ও সরু গুহা পথ দিয়ে বের হয়ে আসার জন্য প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন ফুটবল অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী কোচসহ ওই ১২ কিশোর ফুটবলার গুহাটির ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর বের হতে পারেনি। এরপর টানা ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২ জুলাই গুহার ভেতরে জীবিত অবস্থায় তাদের শনাক্ত করেন ডুবুরিরা। রবিবার (৮ জুলাই) থাইল্যান্ড সরকার তাদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
স্ট্রেচারে করে গুহা থেকে সোমবার উদ্ধার হওয়া চার জনকে চিয়াং রাই শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর আগে রবিবার উদ্ধার হওয়া চার জনও একই হাসপাতালে অবস্থান করছে। এখনও তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি।
থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত কিশোররা খেতে পারছে। তাদের অনুরোধে প্রিয় খাবার সরবরাহের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। গুহায় দশদিন না খেয়ে অবস্থান করায় হজম ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত থাকার আশঙ্কায় তা সরবরাহ করা হয়নি।
গুহায় উদ্ধার অভিযানে ৯০ জন বিশেষজ্ঞ ডুবুরি বিভিন্নভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এদের মধ্যে ৪০ জন থাইল্যান্ডের এবং বিদেশি ডুবুরি আছেন ৫০ জন। সাঁতারে বিশেষ পারদর্শী অস্ট্রেলীয় চিকিৎসক তেমনি রয়েছেন পানির নিচে কাজ করতে পারা রোবট সঙ্গে আনা চীনা উদ্ধারকর্মীরা। সেখানে উপস্থিত হয়েছেন ব্রিটিশ ডুবুরি ও মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্যরাও। থাইল্যান্ডে কাজ করা একজন বেলজিয়ান নাগরিকও এক পর্যায়ে থাই উদ্ধার কর্মীদের সঙ্গী হয়েছিলেন।
অভিযানে অংশ নেওয়া ডুবুরিরা কিশোরদের অন্ধকার ও পানিতে নিমজ্জিত পথ গাইড করে গুহা মুখে নিয়ে আসছেন। যে পথ দিয়ে কিশোরদের বের করে নিয়ে আসা হচ্ছে সেটা অভিজ্ঞ ডুবুরিদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। বের হয়ে আসার পথে ডুবুরিদের হাঁটা, হামাগুড়ি, উপরে ওঠা এবং ডুব দিতে হয়। দড়ি দিয়ে বের হওয়া ও প্রবেশের পথ চিহ্নিত করা হয়েছে। কিশোরদের ফেস মাস্ক পরিয়ে দুইজন ডুবুরি গাইড করে নিয়ে আসেন। ডুবুরিদের একজন অক্সিজেন ট্যাংক বহন করেন।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে অর্ধেক পথ আসার পর টি-জাংশান। এখানে রাস্তা এতো ছোট যে অক্সিজেন ট্যাংক খুলতে হয় ডুবুরিদের। গুহাপথের চেম্বার-৩ এ ডুবুরিদের জন্য ক্যাম্প বসানো হয়েছে। এছাড়া বড় ধরনের মেশিন লাগিয়ে গুহার পানি সেচে বাইরে ফেলা হচ্ছে। এতে করে গুহার পানির উচ্চতা কিছুটা কমানো গেছে। যা ডুবুরিদের যাতায়াতে সহায়তা করেছে।
গুহায় প্রবেশ কত বিপজ্জনক তা বুঝা যায় শুক্রবার নৌবাহিনীর সাবেক এক ডুবুরির মৃত্যুর ঘটনায়। সামান গুনান কিশোরদের অক্সিজেন ট্যাংক সরবরাহ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে তারই অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এই অবস্থা থেকে আর ফেরানো যায়নি। তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, বন্ধুর এই আত্মত্যাগ বিফলে যেতে দেবেন না তারা।
সোমবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে উদ্ধার অভিযানের প্রধান জানিয়েছেন, প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার অভিযান সহজেই সম্পন্ন করা গেছে। রবিবারের তুলনায় কাল সময় লেগেছে দুই ঘণ্টা কম।
তবে আজকেই পাঁচ জনকেই উদ্ধার করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমি বলতে পারছি না। এই বিষয়ের দায়িত্ব ডুবুরি দলের। তাদের পরিকল্পনা চারজনকে উদ্ধার করা।
মঙ্গলবার অভিযান শুরুর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করতে আরও ২০ ঘণ্টা লাগতে পারে। আমি একেবারে সুনির্দিষ্ট সময় আপনাদের জানাতে পারছি না।







