প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জন্য থাকা বরাদ্দ কর্তন করতে বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) শ্রীলঙ্কার সংসদে প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার দ্বারা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বরখাস্ত রনিল বিক্রমাসিংহের সমর্থক সংসদ সদস্যরা এই প্রস্তাব আনেন। সংশ্লিষ্ট একজন সংসদ সদস্য জানিয়েছে, তারা আগামীকাল সব মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কর্তনের প্রস্তাব আনবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছ, মাহিন্দ্রা রাজাপাকসের সমর্থকরা সংসদ অধিবেশনকে বর্জন করে এই প্রস্তব পাশের ঘটনাকে অবউধ আখ্যা দিয়েছেন। তারা স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সিরিসেনা গত ২৬ অক্টোবর রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু তার এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। দেশটির সংসদে দুই দুইবার বিক্রমাসিংহের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণিত হয়। তবু সিরিসেনা সেই ফলাফল মানতে অস্বীকার করেন ‘যথাযথ প্রক্রিয়া’ না মানার আপত্তি উল্লেখ করে। দেটিতে স্পিকার মন্তব্য করেছেন, শ্রীলঙ্কায় কার্যত কোনও প্রধানমন্ত্রী নেই।
অচলাবস্থা কাটাতে সিরিসেনা বলেছিলেন, তিনি নতুন নির্বাচন দেবেন। কিন্তু নভেম্বর মাসের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট সেই আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দেয়। আগামী ডিসেম্বরে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে। তখনও যদি সিরিসেনার নির্বাচন ঘোষণার আদেশ বাতিল হয়ে যায় তাহলে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক সংকটের সমাধান অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জন্য থাকা বরাদ্দ কর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। অধিবেশন বর্জন করেন রাজাপাকসের সমর্থ সংসদ সদস্যরা। এমনিতেও অবশ্য তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। শ্রীলঙ্কার সংসদে দুই দুইবার আস্থা ভোটে দেখা গেছে বেশিরভাগ সংসদ সদস্য বিক্রমাসিংহের পক্ষে। রাজাপাকসের অধীনে থাকা প্রশাসনকে অবৈধ মনে করেন তারা। আর তাই রাজাপাকসের সিদ্ধান্তে সরকারি অর্থ যাতে খরচ না হয় তা নিশ্চিতে প্রস্তাবটি পাস করিয়েছেন তারা।
সাবেক অর্থমন্ত্রী রাভি করুণানায়েকে বলছেন, ‘বৃহস্পতিবারের প্রস্তাব পাস হয়ে যাওয়া মানে প্রধানমন্ত্রীর পদ অকার্যকর হয়ে যাওয়া। আগামীকাল আমরা এরকম আরেকটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করবো, যাতে সব মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাতিল হয়ে যায়।’ বৃহস্পতিবারের প্রস্তাবনাটি তিনিই উপস্থাপন করেছেন, যা ১২৩ ভোটে জয় যুক্ত হয়েছে। বিরুদ্ধে ভোট পড়েনি একটিও। সংসদে মোট সদস্য ২২৫ জন।
রাজাপাকসের সমর্থকরা বৃহস্পতিবারের ভোটাভুটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন। তারা স্পিকার কারু জয়সুরিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। রাজাপাকসে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘স্পিকার সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ও স্বচ্ছাচারিতার ভিত্তিতে কাজ করছেন।’ গত ১৬ নভেম্বর আস্থা ভোট অনুষ্ঠান ঠেকাতে তার সমর্থক সংসদ সদস্যরা স্পকিকারের দিকে চেয়ার ছুঁড়ে মেরেছিলেন, ছিটিয়েছিলেন মরিচের গুঁড়াও।
এদিকে বৃহস্পতিবারই শ্রীলঙ্কার তামিলদের সংগঠন টিএনএ জানিয়েছে। বিক্রমাসিংহের নেতৃত্বে কোনও জোট সরকার গঠিত হলে তাতে তারা সমর্থন জানাবে। রয়টার্স লিখেছে, এ মাধ্যমে আর কোনও সংশয়ই থাকল না যে বিক্রমাসিংহের পক্ষেই নিশ্চিতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, যা রাজাপাকসে নিজের জন্য নিশ্চিত করতে পারেননি।







