থাইল্যান্ডের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার বড় ধরনের কড়াকাড়ি আরোপ করেছে দেশটির সামরিক সরকার। রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করছে, এতে করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হবে এবং তরুণ ভোটারদের সরাসরি প্রভাবিত করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এখবর জানিয়েছে।
বেশ কয়েকবার নির্বাচনের তারিখ পেছানোর পর আগামী ২৪ মার্চ ভোটরে দিন ঘোষণা করেছে থাইল্যান্ডের সামরিক সরকার। ২০১৪ সালে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এটাই হবে প্রথম নির্বাচন। দেশটির নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের নতুন জারি করা বিধিমালায় নির্দিষ্টভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রার্থীর নাম, ছবি ও জীবনবৃত্তান্ত এবং দলের নাম, লোগো, নীতি ও স্লোগান ছাড়া কোনও লেখা বা বক্তব্য প্রকাশ করায় জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। নতুন প্রগতিশীল দলগুলোকে ঠেকাতেই এই নীতিমালা জারি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্চে। এই দলগুলো নিজেদের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সামাজিক মাধ্যমের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভার করে।
ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টির মুখপাত্র পান্নিকা ওয়ানিচ বলেন, তরুণদের কথা বলতে গেলে তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ও সচেতনতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কোনও সন্দেহ নাই যে, বর্তমান যুগে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠেছে সামাজিক মাধ্যম।
নতুন নীতিমালা ঘোষণার পর ফিউ থাই পার্টির প্রধান নির্বাচনি কৌশলবিদ ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী সুদারাত কেউরাফান নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন। তার দেখানো পথে হেঁটেছেন আরও অনেক রাজনীতিবদও।
থাই রাকসা পার্টির উপদেষ্টা চাতুরন চাইসাং দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা সময়ের সঙ্গে খাপ খায় না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনতার মর্ম অনুধাবন করতে ব্যর্থ বলেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু এটা বন্ধের কোনও উপায় নেই। সামাজিক মাধ্যম এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এর তাল মেলাতে পারবে না কমিশন।







