পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ছক কষছে ভারত। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। একইসঙ্গে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশদুটির মধ্যকার উত্তেজনা নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করছেন শাহ মেহমুদ কুরেশি। সেখানে আমিরাতের নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকের পর শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এসময় ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত ফের পাকিস্তানের মাটিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করার পরিকল্পনা করছে। আর এই জন্য তারা যাদের নিজেদের সঙ্গী মনে করে সেই সব দেশগুলোর সঙ্গে গোপনে আলোচনা চালাচ্ছে। তাদের থেকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করছে।’
ভারত হামলা চালালে পাকিস্তানও পাল্টা আঘাত করবে বলেও হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন কুরেশি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, আসলে কৃষক আন্দোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বর্তমানে চাপে রয়েছে ভারতের বিজেপি সরকার। তাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে সাধারণ নাগরিকদের নজর ঘোরাতেই পাকিস্তানের সীমান্ত পেরিয়ে ফের হামলা চালানোর ছক কষছে তারা। তবে গোয়েন্দাদের মারফত এই খবর পাওয়ার পরেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে আরও জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। চালানো হচ্ছে নজরদারিও।
কয়েকদিন আগেও ভারত এমন কোনও পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তার দাবি ছিল, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে ভারত। এর ফলে তাদের অর্থনীতিতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কৃষকরা তো বটেই, সেই সঙ্গে বিরোধী দল, আইনজীবী ও পড়ুয়াদের প্রতিবাদের সামনে পড়ে এখন হুমকির সুরে কথা বলছে দিল্লি। তাই অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ থেকে নজর ঘোরাতে অন্য কোনও পথ তারা বেছেই নিতে পারে। সেই ঝুঁকি পুরোমাত্রায় রয়েছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত ও পাকিস্তান এ পর্যন্ত তিনটি সর্বাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় যুদ্ধবিমান পাকিস্তানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। পাকিস্তান তখন ভারতীয় একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এই ঘটনার পর থেকে উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।







