আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাংশ যখন মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়েছে, ঠিক সেই সময়ে মিয়ানমারজুড়ে আরও বড় পরিসরের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। এদিকে চলমান সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনে শুক্রবার রাতে পুলিশের গুলিতে আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে। নির্বাচিত নেত্রী সু চি ও এনএলডির অধিকাংশ নেতাকে হয় কারাগারে না হয় বাড়িতে বন্দি করে রেখেছে সেনাবাহিনী। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২ হাজারের বেশি মানুষকে। জাতিসংঘের হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) পর্যন্ত অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটকদের মুক্তির দাবিতে শুক্রবার রাতে ইয়াঙ্গুনের থারকেতা জেলায় পুলিশ স্টেশনের বাইরে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধরা। সে সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে আরও দুইজন নিহত হন।
১৯৮৮ সালে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক শিক্ষার্থী নিহত হন। তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সেসময় সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে গণজাগরণ শুরু হয়েছিল। ফোন মাও নামের ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু বার্ষিকীতে শনিবার আন্দোলনকারীরা আরও বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন।
এমন একটা সময়ে এই বিক্ষোভের ডাক এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের নেতারা মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীরা জনতাকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে, ১৯৮৮ এবং ২০০৭ সালে দেশটির কয়েক দশকব্যাপী সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ১৯৮৮ সালের বিক্ষোভে কমপক্ষে ৩ হাজার বিক্ষোভকারী মারা যান, আর ২০০৭ সালে মারা গিয়েছিলেন ৩০ জন। দুই ঘটনাতেই হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।







