আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে চীনা সেনা মোতায়েনের অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন দূত নিকি হ্যালি এ ব্যাপারে বেইজিংকে সহায়তার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেছেন। গত সপ্তাহে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ নিয়ে কথা বলেন। তবে এ ধরনের যাবতীয় জল্পনাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে চীন ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।
নিজের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ নিয়ে কথা বলেছেন কাবুলে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ওয়াং ইউ। তিনি বলেন, ‘যারা বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে চীনা সামরিক উপস্থিতির গুজব ছড়াচ্ছেন তাদের বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে।’
তালেবানের সাংস্কৃতিক কমিশনের সদস্য ওমর মনসোর বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে বর্তমানে চীনসহ বাইরের কোনও দেশের সামরিক উপস্থিতি নেই।’
গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এই খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে একাধিক চীনা সামরিক বিমান অবতরণ করেছে। যদিও নির্ভরযোগ্য কোনও সূত্র এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটিকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে বেইজিং। আফগানিস্তানের সঙ্গে এখনও যেসব গুটিকয়েক দেশ রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের সম্পর্ক বজায় রেখেছে চীন তাদের অন্যতম। তবে তালেবান সরকারকে এখনও স্বীকৃতি দেয়নি বেইজিং।
গত সপ্তাহে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা (বাগরামে) একটি বিশাল ও সুন্দর বিমান ঘাঁটি নির্মাণ করেছিলাম। এটি তৈরিতে কয়েকশ’ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছিল। আর সেখান থেকে ঘাঁটির বাতিগুলো না নিভিয়েই এক রাতে সেটি ফেলে রেখে চলে এসেছি। এখন এই ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ কার হতে রয়েছে জানেন? চীনের হাতে।’
মূলত ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পরই বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে চীনের সামরিক উপস্থিতির খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বেইজিং ও তালেবান উভয়েই এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: পার্স টুডে, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।









