দেশ পরিচিতি: আফগানিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ এপ্রিল ২০২৩, ০৩:১০আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩, ০৩:১০

বিশাল পাহাড়ে ঘেরা এশিয়ার অস্থিতিশীল ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত একটি দেশ আফগানিস্তান। বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ, সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় সামগ্রিকভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি। লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত।

রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের পর নব্বই দশকে দেশটিতে কঠোর ইসলামি শাসন ব্যবস্থা আরোপ করে তালেবান গোষ্ঠী। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের মুখে ২০০১ সালে তারা ক্ষমতাচ্যুত হয়। ২০২১ সালে বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে যায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট। ক্ষমতায় ফেরে রক্ষণশীল তালেবান। রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সরকারকে অনেক দেশ স্বীকৃতি দেয়নি।

আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • রাষ্ট্রীয় নাম: ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান
  • রাজধানী: কাবুল
  • আয়তন: ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮৬৭ বর্গ কিলোমিটার
  • জনসংখ্যা: প্রায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ
  • ভাষা: পশতু, দারি
  • গড় আয়ু: পুরুষদের ৬৩ বছর, নারীদের ৬৬ বছর

 

নেতৃত্ব

তালেবান নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা

তালেবান নেতা: হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা

হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা তালেবানের সর্বোচ্চ কমান্ডার হিসেবে নির্বাচিত হন ২০১৬ সালে। বর্তমানে তিনি কাবুলের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান। ১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েত সামরিক দখলের প্রতিরোধে লড়াই করেছিলেন তিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে তালেবান সরকারের শেষ সময়ে ইসলামিক আদালতের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আখুন্দজাদা।

 

মিডিয়া

২০২১ সালে আফগানিস্তানে ফের ইসলামিক শাসন ফিরে আসার পর দেশটির মিডিয়ার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে আসছে তালেবান প্রশাসন। নিয়মকানুনে এদিক সেদিক হওয়ার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় একাধিক সংবাদমাধ্যম। ২০০১ সালে পশ্চিমা বাহিনীর হাতে তালেবান সরকারের পতনের পর কয়েক টেলিভিশনসহ ১৭০টিরও বেশি রেডিও স্টেশন আবির্ভূত হয়েছিল।

১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান ত্যাগ করে সোভিয়েত সেনারা। ছবি: রয়টার্স

আফগানিস্তানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা

১৯৭৮: তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ দাউদ খানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেয় কমিউনিস্টরা। তারা ভূমি বণ্টন সংস্কার শুরু করে। দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উসকে দেয় এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতাদর্শীদের দমন করে। পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৭৯: সোভিয়েত সেনাবাহিনী আক্রমণ করে এবং কমিউনিস্ট সরকারকে সমর্থন করে। ওই যুদ্ধে ১০ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

১৯৮৯: সোভিয়েত সেনাদের শেষ দলটি আফগানিস্তান ত্যাগ করে। মার্কিন ও পাকিস্তান সমর্থিত মুজাহিদিনরা সোভিয়েত-প্রতিষ্ঠিত আফগান শাসক নাজিবুল্লাহকে উৎখাত করে। এতে গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

১৯৯৬: তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ইসলামিক কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দেয়।

২০০১: যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ হামলার পর সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। কাবুল থেকে তালেবানদের উৎখাত করা হয় এবং হামিদ কারজাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হন।

২০১৪: আশরাফ গণি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানে মিশন শেষ করে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। এরপরই আফগান বাহিনীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে। কিন্তু আফগান বাহিনী ধারাবাহিকভাবে হামলার মুখোমুখি হয়।

২০২১: মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবানরা কাবুল পুনরায় দখল করে।

২০২১ সালে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান ত্যাগ করে মার্কিন সেনারা। ছবি: রয়টার্স

 

/এলকে/এএ/
সম্পর্কিত
যৌন হয়রানির অভিযোগে জুতার মালা পরিয়ে শিক্ষককে পেটালেন শিক্ষার্থীরা
কী, কেন, কীভাবেযুক্তরাষ্ট্রে আস্থা হারিয়ে কেন পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে কুয়েত
১৩ দিন পর ইরানে হামলা স্থগিত করতে কেন বাধ্য হলেন ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
রাজধানীতে পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২
রাজধানীতে পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২
৫৯ বছরেও গোল, ফুটবল বিশ্বকে আবারও চমকে দিলেন কিং কাজু
৫৯ বছরেও গোল, ফুটবল বিশ্বকে আবারও চমকে দিলেন কিং কাজু
ছাত্রশক্তির সভায় কমিটি নিয়ে হট্টগোল
ছাত্রশক্তির সভায় কমিটি নিয়ে হট্টগোল
চিকিৎসকের বদলে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ, প্রাণে বেঁচে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
চিকিৎসকের বদলে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ, প্রাণে বেঁচে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
শেখ হাসিনা যে দিক দিয়েই আসবে সেই দিক দিয়েই বরণ করবো: এসএম জিলানী
শেখ হাসিনা যে দিক দিয়েই আসবে সেই দিক দিয়েই বরণ করবো: এসএম জিলানী
৩ নেতা একসাথে হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এই সরকারের পতন: কর্নেল অলি আহমদ
৩ নেতা একসাথে হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এই সরকারের পতন: কর্নেল অলি আহমদ
তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না, হাতজোড় করে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ শিক্ষকের
তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না, হাতজোড় করে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ শিক্ষকের
এবার আর ‘ভুল’ নয়, যেসব বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি বানাবে বিএনপি
এবার আর ‘ভুল’ নয়, যেসব বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি বানাবে বিএনপি
খানজাহান আলী বিমানবন্দরে চীনা অর্থায়নের আভাস: প্রস্তাব পেলে একনেকে উপস্থাপনের আশ্বাস
খানজাহান আলী বিমানবন্দরে চীনা অর্থায়নের আভাস: প্রস্তাব পেলে একনেকে উপস্থাপনের আশ্বাস